ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম তার ফেসবুক পোস্টে গতকালের ভাষণে ঘোষণা করা বিভিন্ন পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে নতুন ন্যাশনাল কেয়ার সার্ভিস, পানি ও জ্বালানি খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো, আবাসন সংস্কার, নির্বাচনী ব্যবস্থা পর্যালোচনা এবং ইউরোপের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক আরও জোরদার করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা।
বার্নহাম বলেন, একই নীতির ভিত্তিতে ন্যাশনাল কেয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠা করা হবে, যেভাবে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বা NHS পরিচালিত হয়। এর মাধ্যমে বয়স্কদের জন্য ব্যক্তিগত পরিচর্যা বিনামূল্যে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, পরবর্তী পার্লামেন্টে এই সেবা চালুর অর্থায়নের জন্য রাষ্ট্রীয় পেনশনের ‘ট্রিপল লক’ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হবে। তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় পেনশনে প্রতিবছরের বৃদ্ধি সুরক্ষিত থাকবে।
পানি খাতের বিষয়ে বার্নহাম বলেন, মার্গারেট থ্যাচারের আমলের সরকারি মালিকানার ওপর নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হবে। পাশাপাশি মেয়রদের পানি কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য নতুন ক্ষমতা দেওয়া হবে এবং কোম্পানির নির্বাহীদের বোনাসের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা হবে।
জ্বালানি ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে Great British Grid নামে একটি নতুন সরকারি মালিকানাধীন সংস্থা গঠনের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন তিনি। বার্নহামের মতে, এই সংস্থা বিদ্যুৎ গ্রিডে সংযোগের প্রক্রিয়া দ্রুত করবে এবং খরচ কমাতে ভূমিকা রাখবে।
আবাসন খাতে বার্নহাম বলেন, অনিয়মকারী বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় কাউন্সিল হাউজ নির্মাণ কর্মসূচি নেওয়া হবে এবং লিজহোল্ড ব্যবস্থা সংস্কার এগিয়ে নেওয়া হবে।
নির্বাচনী ব্যবস্থায়ও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এ জন্য একটি জাতীয় নির্বাচনী সংস্কার কমিশন গঠন করা হবে। এর লক্ষ্য হবে দেশের প্রতিটি এলাকার মানুষের ভোট ও প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি পর্যালোচনা করা। লেবার পার্টি জানিয়েছে, কমিশনের কাজে সব রাজনৈতিক দলকে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।
ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়েও নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউরোপের সঙ্গে আরও শক্তিশালী দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের সম্ভাব্য বিভিন্ন পথ নিয়ে আলোচনা করা হবে। লেবার পার্টির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।
নিজের পরিকল্পনার সারসংক্ষেপে বার্নহাম বলেন, মৌলিক সেবাগুলোর ওপর আরও বেশি সরকারি নিয়ন্ত্রণ, জনগণ ও স্থানীয় এলাকার হাতে আরও ক্ষমতা এবং ব্রিটেনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর একটি পরিকল্পনা তার সরকারের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, তার ঘোষিত প্রতিটি বিষয়ের সঙ্গে সবাই একমত নাও হতে পারেন। তবে তার দাবি, তিনি দেশের সামনে থাকা সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে জনগণের সঙ্গে সৎ ছিলেন এবং ব্রিটেন কোন দিকে এগোবে বলে তিনি মনে করেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন।
সূত্রঃ আইটিভি এক্স \ স্যোশাল মিডিয়া
এমকে

