বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতে সর্বোচ্চ দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০০ কোটি ডলার) বিনিয়োগ ও অর্থায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিভিত্তিক ইকুইলাইন ফিন্যান্স এবং ফামিনাস ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত একাধিক বৈঠকে প্রতিষ্ঠান দুটির প্রতিনিধিরা জ্বালানি, পরিবহন, স্বাস্থ্য, বন্দর, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন কৌশলগত খাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব তুলে ধরেন।
বৈঠকে প্রতিনিধিদল জানায়, তারা বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন সম্প্রসারণ, জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক এনার্জি হাব স্থাপন এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জন্য নতুন বাল্ক ক্যারিয়ার ও কার্গো জাহাজ সংগ্রহে অর্থায়নে আগ্রহী। পাশাপাশি রাজধানীকে পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে ‘ক্লিন ঢাকা’ প্রকল্পের আওতায় বৈদ্যুতিক বাস পরিচালনায়ও বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে বিদ্যুৎ, জৈব সার ও বায়োগ্যাস উৎপাদন, বর্জ্য পানি পরিশোধন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও উপস্থাপন করা হয়। প্রতিনিধিদল বন্দর ও লজিস্টিক অবকাঠামোর উন্নয়ন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন, মৎস্য, মাংস ও কৃষিভিত্তিক মূল্য সংযোজন শৃঙ্খলের উন্নয়ন এবং ডেইরি শিল্পকে আধুনিকায়নের বিষয়েও বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে।
এর পাশাপাশি কৌশলগত খাদ্যশস্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও বিনোদন পার্ক, আধুনিক ডেটা সেন্টার, মিথানল এবং অন্যান্য রাসায়নিক শিল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্পায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প শিল্পের বিকাশ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা, অবকাঠামো ও প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবহন ব্যবস্থা, শিল্প উৎপাদন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রযুক্তি খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন
এম.কে

