17.3 C
London
April 3, 2025
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে-ভারত সম্পর্কের অবনতিতে দায়ী মোদি সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতাঃ কংগ্রেস

সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যকে ‘ল্যান্ডলকড’ বা ভূ-বেষ্টিত বলে মন্তব্য করেছিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। তিনি বলেছিলেন, এই অঞ্চলগুলোর সমুদ্রে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে ‘একমাত্র অভিভাবক’ বাংলাদেশ। তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের রাজনীতি। আর দেশের রাজনীতিতে কংগ্রেসের তোপের মুখে পড়েছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস গত সোমবার কেন্দ্রীয় সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করেছে। দলটি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে ‘দৃঢ় সম্পর্কের’ বিষয়ে লেখা তার চিঠির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে এবং ড. ইউনূসে মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে।

সম্প্রতি বেইজিং সফরের সময় ড. ইউনূস বলেন, ‘ভারতের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত সাতটি রাজ্য সম্পূর্ণরূপে ল্যান্ডলকড (স্থলবেষ্টিত)। সমুদ্রের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের কোনো উপায় নেই। আমরাই এই অঞ্চলের জন্য সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক।’

এ বিষয়ে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা ও মুখপাত্র পবন খেরা বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের এই পদক্ষেপ আমাদের উত্তর-পূর্বের নিরাপত্তার জন্য খুবই বিপজ্জনক। সরকার মণিপুরে নজর দিচ্ছে, চীন অরুণাচলে গ্রাম স্থাপন করেছে। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি এমন শোচনীয় অবস্থায় পৌঁছেছে যে, যে দেশ সৃষ্টিতে আমরা প্রধান ভূমিকা পালন করেছি, সেই দেশই এখন আমাদের ঘিরে ফেলার চেষ্টায় ব্যস্ত।’

কংগ্রেস এমপি গৌরব গগৈ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি বাংলাদেশের কাছে একটি চিঠি লিখেছিলেন, যেখানে দুই দেশের মধ্যে ‘দৃঢ় সম্পর্কের’ কথা তুলে ধরা হয়েছে। এ সময় তিনি মোদি সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘তার পর মুহাম্মদ ইউনূসের উত্তর-পূর্ব ভারত এবং চীন সম্পর্কে সাম্প্রতিক মন্তব্য গভীরভাবে উদ্বেগজনক এবং অগ্রহণযোগ্য। কারণ, এটি ভারতের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে দুর্বল করে।’

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিজেপি নেতারাও ড. ইউনূসের সমালোচনা করে তার মন্তব্যকে ‘আপত্তিজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করা পোস্টে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যকে স্থলবেষ্টিত এবং বাংলাদেশকে তাদের সমুদ্রপথের রক্ষক হিসেবে উল্লেখ করে যে মন্তব্য করেছেন, তা আপত্তিকর এবং তীব্রভাবে নিন্দনীয়।’

মণিপুরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং বলেছেন, ড. ইউনূস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ‘কৌশলগত ঘুঁটি’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের মুহাম্মদ ইউনূস ও তার সরকার উত্তর-পূর্বকে তাদের ভূ-রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য একটি কৌশলগত ঘুঁটি হিসাবে দেখানোর চেষ্টা করছেন। এ ধরনের উসকানিমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য একজন নেতার পক্ষে শোভনীয় নয় এবং আমি তার মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই।’

ত্রিপুরার দ্বিতীয় বৃহত্তম দল টিপরা মোথার প্রতিষ্ঠাতা ও রাজ্যটির সাবেক রাজপরিবারের প্রধান প্রদ্যোৎ মাণিক্য বলেছেন, দিল্লি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ স্থাপন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘শত শত কোটি টাকা খরচ’ না করে বরং বাংলাদেশের সেই অংশগুলো দখল করে নিক, যা ‘সব সময়ই ভারতের অংশ হতে চেয়েছে।’

মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক দল শিবসেনার (উদ্ধভ ঠাকরে) এমপি প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী মঙ্গলবার বলেছেন, এটি ‘খুবই গুরুতর বিষয়’ এবং এটি দেশের ‘নিরাপত্তা ও সুরক্ষার’ সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় ভারতের এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত। এটি দেশের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য বিপজ্জনক।’

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রিও ড. ইউনূসের এই মন্তব্যের নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, ‘তার এ ধরনের মন্তব্য করার কোনো অধিকার নেই। তিনি জানেন যে, উত্তর-পূর্ব ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বঙ্গোপসাগরে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশাধিকার নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমাদের খুব ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তিও রয়েছে।’

সূত্রঃ টেলিগ্রাফ

এম.কে
০২ এপ্রিল ২০২৫

আরো পড়ুন

সিলেটের চেয়েও বেশি রেমিট্যান্স আসে চট্টগ্রামে

পুলিশের নতুন আইজিপি হলেন ময়নুল ইসলাম

নিউজ ডেস্ক

দলিলাদি যার ভুমি তার –আসছে নতুন ভুমি আইন