জ্বালানি তেলের মজুত ঠেকাতে একদিকে মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি, অন্যদিকে পেট্রলপাম্পগুলো তদারকির জন্য সরকার থেকে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি–সংকট দেখা দেওয়ায় জ্বালানি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে এক মাস ধরে যুদ্ধ চলছে। তাতে বিশ্বের জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও সংকট দেখা দিয়েছে। কেনার চাপ বেড়ে যাওয়ায় পেট্রলপাম্পগুলোয় প্রতিদিন দীর্ঘ লাইন দেখা দিয়েছে, অনেক পাম্পে তেল মিলছে না।
এর মধ্যে বিভিন্ন স্থানে তেল মজুতের ঘটনা ধরা পড়ার প্রেক্ষাপটে গতকাল শুক্রবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক অনলাইন সভায় ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়।
সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করবে। এই দুই মেট্রোপলিটন এলাকা বাদে জেলা ও বিভাগীয় শহরে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতিটি পেট্রলপাম্পের জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ করবেন।
ট্যাগ অফিসাররা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ অথবা বিপিসি নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাজ করবেন ও দৈনিক প্রতিবেদন দেবেন বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জ্বালানি তেল মজুত ঠেকাতে দেশের ৯টি জেলায় ১৯টি ডিপোতে বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্য এক বার্তায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছে দাবি করে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত না কেনার আহ্বান জানিয়েছে।
এর সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে বার্তায় বলা হয়, ‘জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিটি জেলায় বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট সক্রিয় আছে।’
এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি না করার বিষয়টি তুলে ধরে আরও বলা হয়, ‘অতিরিক্ত লাভের আশায় জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত করবেন না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরকার প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল কিনছে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাই জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঘাটতির কোনো আশঙ্কা নেই।
এম.কে

