ব্রিটেনে বাড়ি বিক্রির বাজারে ক্রেতার সংকট ও অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছেন বিক্রেতারা। গত সেপ্টেম্বরে প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজারের বেশি বাড়ির চাওয়া দাম কমানো হয়েছে। সম্পত্তি বিক্রির ওয়েবসাইট রাইটমুভের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ বছরের মধ্যে কোনো এক মাসে দাম কমানোর এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারে বিক্রির জন্য প্রচুর বাড়ি থাকায় ক্রেতারা এখন পছন্দের সুযোগ বেশি পাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু বিক্রেতা বাড়ির দাম প্রত্যাশার চেয়ে বেশি নির্ধারণ করায় বিক্রি করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। তিন বছরের মধ্যে বন্ধকী ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠায় ক্রেতারাও মাসিক কিস্তি সামর্থ্যের মধ্যে রাখার চেষ্টা করছেন।
রাইটমুভের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত বাড়িগুলোর ৩৪ শতাংশের দাম কমানো হয়েছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এ হার ছিল ৩৬ শতাংশ। দাম কমানোর গড় হার প্রায় ৭ শতাংশ, যা সাধারণ একটি বাড়ির ক্ষেত্রে প্রায় ২১ হাজার পাউন্ডের সমান।
দাম কমানো বাড়ি বিক্রি হতে গড়ে ১১৯ দিন সময় নিচ্ছে। বিপরীতে, শুরু থেকেই একটি নির্দিষ্ট দামে তালিকাভুক্ত বাড়ি ক্রেতা খুঁজে পেতে গড়ে ৩৯ দিন সময় নিচ্ছে।
আরেকটি সম্পত্তি বিক্রির ওয়েবসাইট জুপলার তথ্য বলছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় এ বছরের সেপ্টেম্বরে বিক্রির জন্য বাড়ির সংখ্যা ৫ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু একই সময়ে বিক্রির চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সংখ্যা কমেছে ৯ শতাংশ।
জুপলার গবেষণা পরিচালক রিচার্ড ডনেল বলেন, যেসব বাড়ির দাম কমাতে হয়, সেগুলোর স্বাভাবিক তিন মাসের মধ্যে ক্রেতা পাওয়ার সম্ভাবনা অর্ধেক। ফলে বিক্রেতাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে নতুন করে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হওয়া বাড়িগুলোর এক-চতুর্থাংশ গত এক বছরের মধ্যে আগেও বিক্রির জন্য তোলা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রতি ১০টির ছয়টি বাড়ি এবার আগের চেয়ে কম দামে বাজারে ফিরেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ি বাজারে তোলার শুরুতেই সঠিক দাম নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে কোনো বাড়ি বিক্রি না হলে ক্রেতারা সেটির অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। পরে দাম কমালেও বিক্রেতাকে প্রত্যাশার চেয়ে কম অর্থ গ্রহণ করতে হতে পারে।
তবে স্কটল্যান্ডের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো। সেখানে বাড়ি বিক্রির আগে স্বাধীন মূল্যায়নসহ ‘হোম রিপোর্ট’ ব্যবস্থা রয়েছে। জুপলার তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে স্কটল্যান্ডে তালিকাভুক্ত বাড়িগুলোর ৭৪ শতাংশ তিন মাসের মধ্যে বিক্রি হয়েছে। লন্ডনে এ হার ছিল মাত্র ৩০ শতাংশ।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ইংল্যান্ডে বাড়ির উচ্চমূল্য, স্ট্যাম্প ডিউটি এবং কিছু বাড়ির মালিকের দ্রুত বিক্রির প্রয়োজন না থাকাও বাজারে বিক্রি কম হওয়ার কারণ হতে পারে।
সূত্রঃ বিবিসি
এমকে

