TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

বিএনপির সুনামগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থীর বিরুদ্ধে মনোনয়ন প্রতারণার অভিযোগ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রবাসী নেতার কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের (শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর) ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদের বিরুদ্ধে, যিনি কয়ছর এম আহমেদ নামেও পরিচিত। অভিযোগে বলা হয়েছে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করে তিনি মনোনয়ন বাণিজ্যে জড়িত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিএনপি কর্মী আমিনুল ইসলাম মিঠুর অভিযোগ অনুযায়ী, রাজশাহী-৬ আসন (চারঘাট ও বাঘা) থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কয়ছর আহমেদ তার কাছ থেকে মোট তিন কোটি টাকার চুক্তি করেন। এর অংশ হিসেবে অগ্রিম ৬৫ লাখ টাকা গ্রহণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন নিশ্চিত করা হয়নি এবং ওই অর্থ ফেরতও দেওয়া হয়নি।

আমিনুল ইসলাম মিঠু রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চন্ডিপুর বাজার এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ব্রঞ্চ শহরের স্টারলাইন এলাকায় বসবাস করছেন। নিউইয়র্কের স্টারলাইন, জ্যাকসন হাইটস, চায়না টাউন ও ম্যানহাটনে তার একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তিনি নিজ এলাকা থেকে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

অভিযোগে বলা হয়, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দেওয়া কয়ছর আহমেদ মিঠুকে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এই চুক্তি ও আর্থিক লেনদেনের মধ্যস্থতা করেন রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু, যিনি মিঠুর পূর্বপরিচিত ছিলেন।

চুক্তি অনুযায়ী অর্থ লেনদেনের জন্য কয়ছর আহমেদ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ও চূড়ান্ত হয়েছে—এমন দাবি করে কিছু নথিপত্রও পাঠানো হয়, যেখানে আমিনুল ইসলাম মিঠুর নাম চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে দেখানো হয়।

গত বছরের অক্টোবর মাসে একাধিক কিস্তিতে মোট ৬৫ লাখ টাকা কয়ছরের দেওয়া অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অর্থ জমা দেন মিঠুর ছোট ভাই আবুল হোসেন, তোফাজ্জল হোসেন তপু, মিঠুর প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীর ভাই সাখাওয়াত এবং নিউইয়র্কে মিঠুর ভাড়া বাসার মালিকের ভাই বিমল চন্দ্র পোদ্দার—যারা সবাই বাংলাদেশে অবস্থানরত ছিলেন।

টাকা পাওয়ার পর কয়ছর আহমেদ মিঠুকে জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে কোনো সময় তার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, তারেক রহমান কখনো মিঠুকে ফোন করেননি বা অন্য কোনো মাধ্যমে যোগাযোগও করেননি। পরে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হলে কয়ছরের কথায় মিঠু তার বৃদ্ধ বাবাকে সেখানে পাঠান। কিন্তু বাবার কার্যালয়ে প্রবেশের ব্যবস্থা করতেও ব্যর্থ হন কয়ছর।

শেষ পর্যন্ত আমিনুল ইসলাম মিঠু মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি কয়ছর আহমেদ ও তোফাজ্জল হোসেন তপুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের মধ্যে হওয়া একটি গ্রুপ কলের অডিও রেকর্ডিংয়ের কথা জানিয়েছে এশিয়া পোস্ট। ওই কথোপকথনে মনোনয়নের আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলে দাবি করা হয়েছে। রেকর্ডিংয়ে তোফাজ্জল হোসেন তপুকে বলতে শোনা যায়, প্রয়োজনে তিনি নিজেই তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলবেন এবং মনোনয়ন না হলে তাকে কৈফিয়ত দিতে হবে।

এই ঘটনায় বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে ওই কথোপকথনে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও অডিও পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে এশিয়া পোস্ট। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্রঃ এশিয়া পোস্ট / স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

পুলিশ, র‌্যাব, আনসারের নতুন পোশাক চূড়ান্ত

সাবেক সেনাপ্রধানের বড় ভাই গ্রেফতার

নিউজ ডেস্ক

কোন ‘স্ট্যাটাসে’ ভারতে রাখা হয়েছে শেখ হাসিনাকে