3.6 C
London
February 17, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

বেতন থমকে, বেকারত্ব ঊর্ধ্বমুখীঃ অনিশ্চয়তায় ব্রিটেনের শ্রমবাজার

যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক শ্রমবাজার তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধির হার ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত তিন মাসে দাঁড়িয়েছে ৩.৪ শতাংশে, যা একই সময়ের মূল্যস্ফীতির হারের সমান। ফলে প্রকৃত অর্থে কর্মীদের আয় বাড়েনি এবং এক বছর আগের তুলনায় তাদের আর্থিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।

 

আয় স্থির থাকায় ভোক্তাদের আস্থা কমেছে। পরিবারগুলো বাড়তি ঋণের বোঝা ও সঞ্চয় কমে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারায় মানুষের খরচ করার ক্ষমতা সংকুচিত হয়েছে।

এর মধ্যে বেকারত্বের হার বেড়ে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ৫.২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা প্রায় পাঁচ বছরের সর্বোচ্চ। নিয়োগকর্তারা ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নতুন কর্মী নিয়োগে অনীহা দেখাচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর্মী ধরে রাখতেও চাইছেন না।

খুচরা ও আতিথেয়তা খাত ব্যবসায়িক কর বৃদ্ধিকে দায়ী করছে, অন্যদিকে পেশাগত সেবা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগের কারণে নতুন নিয়োগে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ফলে চাকরি খোঁজার পরিবেশ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সুদের হার কমায়। কিন্তু ইংল্যান্ড ব্যাংক তার সর্বশেষ বৈঠকে সুদের হার ৩.৭৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। নীতিনির্ধারকদের মতে, মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত হার কমানো হবে না।

একই সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও প্রায় স্থির। ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে অর্থনীতি মাত্র ০.১ শতাংশ বেড়েছে। এতে শ্রমবাজার ও আয়ের স্থিরতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

মহামারির পর গৃহঋণের কিস্তি বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার নতুন চাপের মুখে পড়েছে। আগে প্রায় ১.৫ শতাংশ সুদের চুক্তিতে থাকা বহু গৃহমালিক এখন ৪ শতাংশ বা তার বেশি সুদে নতুন চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছেন, ফলে মাসিক ব্যয় বেড়েছে।

তবে কিছু ইতিবাচক লক্ষণও রয়েছে। দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকা মানুষের একটি অংশ নতুন কাজ পেয়েছে এবং কাজসংক্রান্ত ভাতা নেওয়া মানুষের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কমেছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি কমার ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সুদের হার কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভসের জন্য এটি সম্ভাব্য ঘুরে দাঁড়ানোর বছর হতে পারে। বছরের শেষে অর্থনীতি কিছুটা শক্ত অবস্থানে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে যদি এই উন্নতির মূল্য হয় দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ বেকারত্ব, তাহলে জনমনে সন্তুষ্টি ফিরবে না।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

ইইউ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ‘যুব অভিজ্ঞতা’ স্কিম ১২ মাসের ওয়ার্ক ভিসা চালুর সম্ভাবনা

যুক্তরাজ্যের সারেতে কলের পানি না খাওয়ার নির্দেশ জারি করেছে থেমস ওয়াটার

চ্যানেল পাড়ি ঠেকাতে সমুদ্রে পুলিশ, বাড়বে মৃত্যু ও আইনি লড়াই