21.8 C
London
September 19, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্কবার্তাঃ পাসপোর্টে কিছু নাম নিয়ে হতে পারে সমস্যা

বছরের ছুটির মৌসুমে শেষ মুহূর্তে ভ্রমণের প্রস্তুতি নেওয়া পরিবারগুলোর জন্য পাসপোর্টের তথ্য আগেই যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এইচএম পাসপোর্ট অফিস (HM Passport Office) পাসপোর্টে কোন ধরনের নাম গ্রহণযোগ্য নয় এবং কোন ধরনের নাম প্রযুক্তিগত জটিলতা তৈরি করতে পারে, সে বিষয়ে তাদের নির্দেশনা হালনাগাদ করেছে।

জন্মসনদে কোনো নাম বৈধ ও গ্রহণযোগ্য হলেও পাসপোর্টে সেই নাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কিছু শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে বিদেশ ভ্রমণের আগে পাসপোর্টে থাকা নাম ও অন্যান্য তথ্য পরীক্ষা করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এইচএম পাসপোর্ট অফিসের হালনাগাদ নির্দেশনা অনুযায়ী, এমন কিছু নাম গ্রহণ করা হয় না, যেগুলো জনসাধারণের মধ্যে আপত্তি তৈরি করতে পারে, বেআইনি কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করতে পারে কিংবা পাসপোর্ট ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিগত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

নিষিদ্ধ বা আপত্তিকর নামের মধ্যে রয়েছে গালিগালাজ বা অশ্রাব্য শব্দ, যৌনভাবে স্পষ্ট বা অশ্লীল কোনো উল্লেখ এবং এমন ধর্মীয় অর্থবাহী শব্দ, যা সমাজের কোনো অংশের মানুষের কাছে আপত্তিকর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানিকর হতে পারে—এমন উল্লেখও পাসপোর্টের নামে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। জীবিত বা মৃত কোনো ব্যক্তিকে ঘিরে এমন কোনো নাম বা উল্লেখ, যা জনসাধারণের মধ্যে আপত্তি সৃষ্টি করতে পারে, সেটিও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে।

বেআইনি কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত বা প্ররোচিত করতে পারে—এমন নামের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিধিনিষেধ। এর মধ্যে অপরাধী চক্র বা উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নাম, বর্ণ বা ধর্মীয় বিদ্বেষ উসকে দিতে পারে এমন শব্দ এবং অপরাধ বা সমাজবিরোধী আচরণে উৎসাহিত করে এমন শব্দ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যতের এমন কোনো কর্মকাণ্ড বা ঘটনার উল্লেখ, যা জনসাধারণের মধ্যে আপত্তি সৃষ্টি করতে পারে, সেটিও গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। একইভাবে অপরাধ গোপন করতে সহায়তা করতে পারে—এমন কোনো উল্লেখও নিষিদ্ধ। এর উদাহরণ হিসেবে যৌন অপরাধীদের নিবন্ধনে থাকার মতো বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

নামের ক্ষেত্রে শুধু অর্থ বা শব্দের বিষয়টিই নয়, প্রযুক্তিগত সামঞ্জস্যও বিবেচনা করা হয়। এইচএম পাসপোর্ট অফিস জানিয়েছে, সব নামকে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (ICAO) নির্ধারিত পাসপোর্টের মানদণ্ড পূরণ করতে হয়।

তবে নামের মধ্যে অ্যাপোস্ট্রফি (‘) ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। এইচএম পাসপোর্ট অফিসের ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশন প্রসেসিং (DAP) সিস্টেম নামের যেকোনো স্থানে অ্যাপোস্ট্রফি গ্রহণ করতে পারে।

অন্যদিকে, ডায়াক্রিটিক্যাল ক্যারেক্টার বা অক্ষরের সঙ্গে যুক্ত বিশেষ চিহ্ন এবং অ্যাকসেন্ট মার্কযুক্ত কিছু অক্ষর ব্যবহারের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ধরনের অক্ষরযুক্ত নাম সিস্টেমে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।

দীর্ঘ নামের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। এইচএম পাসপোর্ট অফিস একটি প্রথম নামের জন্য সর্বোচ্চ ৩০টি অক্ষর এবং একটি পদবির জন্য সর্বোচ্চ ৩০টি অক্ষর গ্রহণ করতে পারে। এই গণনার মধ্যে নামের মাঝের স্পেসও অন্তর্ভুক্ত থাকে।

নাম নির্ধারিত সীমার চেয়ে দীর্ঘ হলে আবেদনকারীকে নাম সংক্ষিপ্ত করার অনুরোধ করা হতে পারে। বিকল্প হিসেবে অতিরিক্ত নামগুলোর প্রথম অক্ষর ব্যবহারের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। তবে প্রথম নাম বা পদবির ক্ষেত্রে এই সংক্ষিপ্তকরণের নিয়ম প্রযোজ্য নয়।

ফলে বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করা ব্রিটিশ নাগরিকদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে পাসপোর্টের নাম, বানান ও অন্যান্য তথ্য আগে থেকেই যাচাই করে নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। বিশেষ করে নতুন পাসপোর্টের আবেদন, নবায়ন বা নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ না করলে আবেদন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সূত্রঃ এইচএম পাসপোর্ট অফিস\ইউকে.গভ

এমকে

আরো পড়ুন

ইংল্যান্ডে প্রতি ৯টি নতুন ঘরের মধ্যে একটি বন্যা ঝুঁকিপূর্ণ

“মুসলমানদের গ্রেট ব্রিটেন ছাড়তে হবে”—টমি রবিনসনের বক্তব্যে তীব্র বিতর্ক

হিথ্রো বিমানবন্দর হতে পাসপোর্ট,বিমান টিকেট ছাড়াই আমেরিকা যাত্রা