17.8 C
London
October 15, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটিশ পাসপোর্ট পেতে মেয়ের ডিএনএ পরীক্ষার প্রস্তাবঃ বাবার কাছে ৬০০ পাউন্ড দাবি

ব্রিটিশ পাসপোর্ট পেতে নিজের মেয়ের পিতৃত্ব প্রমাণের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করানোর প্রস্তাব পেয়েছেন ফ্রান্সে বসবাসরত এক ব্রিটিশ নাগরিক। মেয়ের জন্ম থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পারিবারিক ছবি, হাসপাতালের নথি এবং বিয়ের ও জন্মসনদের আনুষ্ঠানিক অনুবাদ জমা দেওয়ার পরও পিতৃত্বের প্রমাণ যথেষ্ট নয় বলে জানানো হয় তাকে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ৬০০ পাউন্ড খরচ হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের ১২ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি একজন ব্রিটিশ নাগরিক এবং তার স্ত্রী ফরাসি নাগরিক। তারা ফ্রান্সে বসবাস করেন। তাদের বড় দুই সন্তানের ব্রিটিশ ও ফরাসি—দুই দেশের পাসপোর্ট রয়েছে। তবে তৃতীয় সন্তান জিম্বাবুয়েতে জন্ম নেওয়ায় তার কাছে কেবল ফরাসি পাসপোর্ট রয়েছে।

মেয়ের জন্য ব্রিটিশ পাসপোর্টের আবেদন শুরু করেন ওই বাবা গত ফেব্রুয়ারিতে। আবেদনের অংশ হিসেবে তিনি স্ত্রীর গর্ভাবস্থার ছবি, মেয়ের জন্মের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পারিবারিক ছবি, হাসপাতালের নথি এবং ফরাসি ভাষায় থাকা বিয়ের ও জন্মসনদের আনুষ্ঠানিক অনুবাদ জমা দেন।

আবেদনের বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে তাকে তার চাকরি, যাতায়াতের পথ এবং বাড়ির ঘরের বিন্যাস সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। তবে মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে খুব বেশি প্রশ্ন করা হয়নি বলে জানান তিনি। এরপর পিতৃত্বের প্রমাণ অপর্যাপ্ত বলে জানিয়ে তাকে ডিএনএ পরীক্ষা করানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়।

মেয়েকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে অসুস্থ বৃদ্ধ বাবার সঙ্গে দেখা করতে চান ওই ব্যক্তি। কিন্তু মেয়েকে নিয়ে ভ্রমণ করলে বিমান সংস্থা তাকে যুক্তরাজ্যগামী ফ্লাইটে উঠতে দেবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় তারা যাত্রার ঝুঁকি নিতে পারছেন না বলে জানান তিনি।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্রিটিশ নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের জন্য ব্রিটিশ পাসপোর্ট প্রয়োজন। ব্রিটিশ পাসপোর্ট না থাকলে বিকল্প হিসেবে ৫৮৯ পাউন্ড খরচ করে ‘সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট’ নিতে হয়। এ নিয়মের কারণে বিদেশে বসবাসরত কিছু ব্রিটিশ নাগরিক ও তাদের সন্তানদের ভ্রমণে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন নিয়মের কারণে কিছু শিশু বিদেশে আটকা পড়েছে এবং একই পরিবারের ভাইবোনদের মধ্যে কারও পাসপোর্টের আবেদন মঞ্জুর হলেও অন্যজনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী ডিএনএ পরীক্ষা করাতে অস্বীকৃতি জানালে কর্মকর্তাদের অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে সম্ভাব্যতার ভারসাম্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলে তার কারণও ব্যাখ্যা করতে হবে। কিন্তু ওই বাবা দাবি করেছেন, পিতৃত্বের পক্ষে এত নথি জমা দেওয়ার পরও সেগুলো কেন যথেষ্ট নয়, তা তাকে জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে দ্য গার্ডিয়ান ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে দপ্তরটি নির্দিষ্ট ব্যক্তির আবেদন নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে তারা জানায়, আবেদনকারীর দেওয়া তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য বাড়ির ঘরের বিন্যাসের মতো অতিরিক্ত প্রমাণ চাওয়া হতে পারে।

পরে ওই বাবাকে জানানো হয়, তার মেয়ের পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। অথচ এপ্রিলের পর থেকে নতুন কোনো নথি চাওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হলো, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এমকে

আরো পড়ুন

চ্যানেল পারাপারে নতুন চুক্তিঃ ফ্রান্সে ফেরত যাবে অনেকে, যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পাবে বাছাইকৃতরা

যুক্তরাজ্যে মুখ ঢাকায় নতুন বিধিনিষেধঃ অমান্যে ৭০ পাউন্ড জরিমানা

যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় সংকট: আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নীতিতে কঠোরতার পেছনে যে বাস্তবতা

নিউজ ডেস্ক