21.8 C
London
September 19, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনকে ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব ইউরোপে’ যোগ দেওয়ার প্রস্তাব ফরাসি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আতাল ব্রিটেনকে একটি প্রস্তাবিত ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব ইউরোপে’ যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ব্রেক্সিটের পর ইউরোপের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি নতুন কাঠামো তৈরি হতে পারে।
দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী আতাল ইউরোপীয় ইউনিয়নের বর্তমান ২৭ দেশের কাঠামোর পরিবর্তে প্রায় ৮ থেকে ১০টি দেশের একটি ঘনিষ্ঠ জোট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এই জোটে অভিন্ন ঋণ, অভিন্ন করব্যবস্থা ও অভিন্ন শ্রমবিধি থাকবে এবং দেশগুলো কার্যত একটি একক অর্থনীতির মতো কাজ করবে।
প্রস্তাবিত জোটের নেতৃত্বে সরাসরি নির্বাচিত একজন প্রেসিডেন্ট থাকবেন। এর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ফ্রান্সের পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ইউরোপের জন্য একটি নতুন পারমাণবিক নিরাপত্তা ছাতা হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাবও দিয়েছেন আতাল।
ব্রিটেনের বিষয়ে আতাল বলেন, “আমি আশা করি, একদিন যুক্তরাজ্য স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে আবারও এই অভিযাত্রায় নিজের জায়গা খুঁজে নেবে।” এর আগে তিনি ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুনরায় যোগ দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
৩৭ বছর বয়সী আতালের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো বড় শক্তির প্রভাবের সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ দেশের বর্তমান মডেল “নিজস্ব সীমায় পৌঁছে গেছে”। তার মতে, আরও ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বিত একটি ছোট জোট ইউরোপকে বৈশ্বিক পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে পারে।
আতাল একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সুরক্ষার ওপর ইউরোপের নির্ভরতা কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, ফ্রান্সের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা একটি “নতুন ইউরোপীয় পারমাণবিক ছাতা” হিসেবে কাজ করতে পারে।
২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মধ্যপন্থী প্রার্থী হিসেবে আতাল ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার ফিলিপের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে মধ্যপন্থী শিবিরের বিভক্তি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে।
ইপসোস-বিভিএর চলতি মাসের একটি জরিপে মেরিন ল্য পেনের সমর্থন ৩৩ থেকে ৩৫ শতাংশ এবং বামপন্থী নেতা জ্যাঁ-লুক মেলঁশোঁর সমর্থন ১৫ দশমিক ৫ থেকে ১৭ শতাংশের মধ্যে ছিল। আতাল ও ফিলিপ—দুজনকে একই পরিস্থিতিতে বিবেচনা করা হলে মেলঁশোঁ তাদের আগে দ্বিতীয় দফায় যাওয়ার অবস্থানে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আতাল এরই মধ্যে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে “১,০০০ বিস্ত্রো” নামে একটি প্রচারণা সফর শুরু করেছেন। প্রচারণার একটি ভিডিওতে হাতে বিয়ার নিয়ে তাকে দেখা যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও উপহাসের মুখে পড়তে হয়। মদবিরোধী কর্মীরাও ওই প্রচারণার সমালোচনা করেন এবং ফ্রান্সের কঠোর বিজ্ঞাপন বিধি মেনে চলা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তবে আতালের ইউরোপীয় পরিকল্পনাটি আরও বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রস্তাব দিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন ঋণ ও করব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো উত্তর ইউরোপীয় দেশগুলোতে অভিন্ন ঋণের বিষয়টি বিতর্কিত।
নিজেদের কর আরোপের ক্ষমতা জাতীয় সরকারের হাতে রাখার পক্ষেও ইউরোপের অনেক দেশ অবস্থান করে আসছে। ফলে আতালের প্রস্তাব বাস্তবায়নে সদস্য দেশগুলোর রাজনৈতিক সম্মতি পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আতালের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ১০টি দেশ চাইলে অন্য সদস্যদের অপেক্ষা না করে আরও ঘনিষ্ঠভাবে একীভূত হতে পারে। তবে এর বিরোধিতা করতে পারে এমন দেশগুলো আশঙ্কা করতে পারে যে ইউরোপ দুই গতির কাঠামোয় বিভক্ত হয়ে যাবে এবং কিছু দেশ কার্যত দ্বিতীয় স্তরের সদস্যে পরিণত হবে।
ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতালের অবস্থান ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর অবস্থানের চেয়েও বেশি সমন্বিত কাঠামোর দিকে যাচ্ছে। ম্যাক্রোঁ সরাসরি একটি ফেডারেল ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব ইউরোপ’ গঠনের আহ্বান জানাননি। বরং তিনি ইউরোপের ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে ইউরোপ ওয়াশিংটনের ওপর কম নির্ভর করে নিজস্ব ভূরাজনৈতিক ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে পারে।
আতালের প্রস্তাবের সঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনের অতীত অবস্থানেরও কিছু মিল রয়েছে। ফন ডার লেয়েন একসময় ফেডারেল ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব ইউরোপ’-এর পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তবে ইউরোপীয় কমিশনের শীর্ষ পদে যাওয়ার পর তার অবস্থান তুলনামূলকভাবে সংযত হয়েছে।
আতাল তার বক্তব্যে ফন ডার লেয়েনের সাম্প্রতিক অবস্থানেরও সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, ইউরোপকে আরও দ্রুত এবং আরও দূর এগোতে হবে। ফন ডার লেয়েনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণকে তিনি “অনেক কম, অনেক দেরি” হিসেবে বর্ণনা করেন।
আতালের প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিকভাবে আরেকটি বিষয় আলোচনায় এসেছে। তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী স্তেফান সেজুর্নে বর্তমানে ফন ডার লেয়েনের নির্বাহী ভাইস-প্রেসিডেন্টদের একজন এবং সমৃদ্ধি ও শিল্প কৌশলবিষয়ক দায়িত্বে রয়েছেন। তবে আতালের দল জানিয়েছে, তার প্রস্তাবিত ইউরোপীয় ফেডারেল কাঠামো তৈরিতে সেজুর্নের কোনো ভূমিকা ছিল না।
আতাল ও সেজুর্নে দুজনই ম্যাক্রোঁর রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছেন। তারা ২০২২ সালে আলাদা হলেও দুই বছর পর আবার একত্র হন। আতাল পরবর্তীতে সেজুর্নেকে “আমার জীবনের ভালোবাসা” বলে উল্লেখ করেন।
চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সেখানে তাদের “আতালুর্নে” নামে ডাকা হচ্ছে এবং তাদের নিয়ে ফ্যান ফিকশন ও রোমান্টিক ভিডিও তৈরি হয়েছে। আতালের দল জানিয়েছে, তারা বিষয়টি “কৌতূহল ও বিস্ময়ের” সঙ্গে দেখছে, তবে এই কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করে না।
আতালের প্রস্তাব এখনো একটি রাজনৈতিক পরিকল্পনা হিসেবেই রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত করতে হলে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনসহ ইউরোপীয় দেশগুলোর রাজনৈতিক সমর্থন এবং ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক নীতির বিষয়ে ব্যাপক সমঝোতা প্রয়োজন হবে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এমকে

আরো পড়ুন

২০২১ থেকে ব্রিটিশদের জন্য ৭টি নতুন আইন

নিউজ ডেস্ক

ভিড় বেড়েছে লন্ডনের প্রপার্টি মার্কেটে

নিউজ ডেস্ক

ইংলিশ চ্যানেলে নতুন রেকর্ডঃ এক নৌযানে ২৩০ অভিবাসী, বাড়ছে প্রাণহানির আশঙ্কা