17.1 C
London
October 13, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে জন্মগ্রহণ করেও মিলল না নাগরিকত্বঃ ২৪টি অপরাধে দোষী ব্যক্তির আবেদন খারিজ

যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করে সারা জীবন দেশটিতে বসবাস করলেও ব্রিটিশ নাগরিকত্বের নিবন্ধন নিশ্চিত করতে পারেননি রেমি উইলিয়াম আকিনিয়েমি। তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ইতিহাস থাকায় নাগরিকত্বের আবেদন প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন দেশটির হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছেন, নাগরিকত্বের জন্য নির্ধারিত আইনি শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক; শুধু যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ ও দীর্ঘদিন বসবাসের কারণে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, আকিনিয়েমি ১৯৮৩ সালের ২১ জুন যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন এবং জীবনের পুরোটা সময় দেশটিতে কাটিয়েছেন। তবে ১৯৮১ সালের ব্রিটিশ ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ আর সবার জন্য বহাল নেই। আইনের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়।

আইনের ১(৪) ধারায় নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণকারী কোনো ব্যক্তি ১০ বছর বয়সের পর নাগরিকত্বের জন্য নিবন্ধনের অধিকার পেতে পারেন। আকিনিয়েমির ক্ষেত্রেও এ ধরনের সুযোগ ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তার বাবা-মা এ বিষয়ে আবেদন করেননি। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্ব নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ‘ভালো চরিত্র’ বা ‘গুড ক্যারেক্টার’ শর্ত যুক্ত হওয়ায় তার আবেদন জটিল হয়ে পড়ে।

আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, আকিনিয়েমির বিরুদ্ধে মোট ২৪টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। এসব অপরাধের মধ্যে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে একজন সাইকেল আরোহীর মৃত্যুর ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া, ক্লাস এ মাদক সরবরাহ, হামলা ও ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অপরাধ অন্তর্ভুক্ত। সাইকেল আরোহীর মৃত্যুর ঘটনায় তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তার সর্বশেষ অপরাধের ঘটনা ২০১৮ সালের বলে মামলার তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

২০২৩ সালে আকিনিয়েমি ব্রিটিশ ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের ১(৪) ধারা এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে নাগরিকত্ব নিবন্ধনের সুযোগসংক্রান্ত ৪এল ধারার অধীনে আবেদন করেন। তবে ২০২৪ সালের অক্টোবরে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল, একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কারণে তিনি ‘ভালো চরিত্র’ শর্ত পূরণ করেননি। পাশাপাশি, বিশেষ পরিস্থিতিতে নাগরিকত্ব নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তিও তিনি প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আকিনিয়েমি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। তিনি নাগরিকত্ব নিবন্ধনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বৈধতা, সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা এবং মানবাধিকার আইনের আওতায় নিজের দাবির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

মামলাটি পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন এবং আবেদনকারীর উত্থাপিত দাবিগুলো খারিজ করেন। আদালতের মূল্যায়নে, ‘ভালো চরিত্র’ শর্ত প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইনগত ত্রুটি প্রমাণিত হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকাকেও অবৈধ ঘোষণার যথেষ্ট কারণ পাওয়া যায়নি।

আদালত আরও বিবেচনা করেন, ৪এল ধারার ব্যাখ্যায় ‘সরাসরি’ শব্দটির ব্যবহার নিয়ে আপত্তি থাকলেও সেই বিষয়টি সিদ্ধান্তের ফল পরিবর্তন করত না। একইভাবে, মানবাধিকার আইনের ৮ ধারার অধীনে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের অধিকারের লঙ্ঘন হয়েছে—আবেদনকারীর এমন দাবিও আদালত গ্রহণ করেননি।

এই রায় যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আইনি যোগ্যতা ও ‘ভালো চরিত্র’ শর্তের গুরুত্ব তুলে ধরে। তবে রায়টির অর্থ এই নয় যে যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তির নাগরিকত্বের আবেদন অপরাধের ইতিহাস থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যান করা হবে। আবেদনকারীর পরিস্থিতি, প্রযোজ্য আইনের শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই প্রতিটি আবেদন বিবেচনা করা হয়।

সূত্রঃ যুক্তরাজ্যের হাইকোর্টের রায় (২০২৬ EWHC 2388 Admin), বিএআইএলআই \ ফ্রি মুভমেন্ট

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের উড়োজাহাজ ঝড়ের কবলে পড়ে ভুল গন্তব্যে

ভুলভাবে বিদেশী স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগে লাইসেন্স হারিয়েছে ১০০ এর বেশি কেয়ারহোম

নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশের যাত্রীদের জন্য ব্রিটেন ভ্রমণের সর্বশেষ নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক