ব্রিটেনে অনলাইন কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে প্রতারণা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ মাসে পণ্য বা সেবা কেনার নামে অগ্রিম টাকা নিয়ে প্রতারণার ঘটনা শনাক্তের হার বেড়েছে ১৬৪ শতাংশ। এটিই বর্তমানে যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা প্রতারণার ধরন হিসেবে উঠে এসেছে।
প্রতারণা শনাক্তকরণ সেবা ‘আস্ক সিলভার’-এর তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ প্রতিষ্ঠানের পরিচয় দিয়ে প্রতারণার ঘটনা বেড়েছে ৩১ শতাংশ। একই সময়ে ভুয়া নিরাপত্তা সতর্কতা—যেমন কম্পিউটার বা মোবাইলে ভাইরাস থাকার দাবি করে পাঠানো পপ-আপ, ইমেইল বা বার্তা—সংক্রান্ত যাচাই বেড়েছে ৬২ শতাংশ।
ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ে পাঠানো ভুয়া বার্তার ঘটনাও বেড়েছে ২৯ শতাংশ। ভুয়া অনলাইন ক্যাসিনো-সংক্রান্ত প্রতারণা বেড়েছে ৫৯ শতাংশ এবং ফেসবুক মার্কেটপ্লেস ও এটসির মতো অনলাইন বাজারে প্রতারণা বেড়েছে ৭৬ শতাংশ।
দ্য কো-অপারেটিভ ব্যাংকের জন্য করা ২ হাজার ব্রিটিশ প্রাপ্তবয়স্কের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রতারণার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন। ৬৩ শতাংশ মনে করেন, প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে প্রতারণা আরও জটিল হয়ে উঠছে। ৫৭ শতাংশ বলেছেন, প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে এবং ৫৫ শতাংশ মনে করেন এসব প্রতারণা আগের তুলনায় শনাক্ত করা কঠিন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রতারণামূলক বার্তা ও ওয়েবসাইট আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। জরিপে ৮৪ শতাংশ মানুষ বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠায় তারা উদ্বিগ্ন।
২০২৫ সালে ব্রিটেনে ৪০ লাখের বেশি অনলাইন প্রতারণার ঘটনা রেকর্ড হয়েছে বলে দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য উল্লেখ করেছে ডেইলি মিরর। এসব প্রতারণার কারণে ৩০ লাখের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। প্রতারণার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের গড় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৮৫০ পাউন্ড।
প্রতারণার শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে শুধু বয়স্করাই সবচেয়ে ঝুঁকিতে নেই। জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সীরা অনলাইন প্রতারণার শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষ করে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ে পাঠানো বার্তার মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্য।
‘আস্ক সিলভার’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ মাসে সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া প্রতারণার মধ্যে ৩১ শতাংশ ছিল সাধারণ পণ্য কেনাকাটার প্রতারণা। এরপর ১০ শতাংশ ছিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ে প্রতারণা, ৯ শতাংশ প্রযুক্তি-সংক্রান্ত প্রতারণা, ৬ শতাংশ ডেলিভারি প্রতারণা এবং ৪ শতাংশ সরকারি সংস্থার পরিচয়ে প্রতারণা।
এ ছাড়া ভুয়া অনলাইন ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সি, অনলাইন মার্কেটপ্লেস, ভুয়া কাজের প্রস্তাব এবং বড় অঙ্কের অর্থ বা পুরস্কার পাওয়ার প্রলোভন দেখানো প্রতারণাও উল্লেখযোগ্য হারে চলছে।
দ্য কো-অপারেটিভ ব্যাংকের অর্থনৈতিক অপরাধবিষয়ক প্রধান বিশাল মাজিথিয়া বলেছেন, প্রতারকেরা এখন অনলাইন কেনাকাটা, পার্সেল ট্র্যাকিং কিংবা পরিচিত কোনো প্রতিষ্ঠানের বার্তার মতো দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে ব্যবহার করে মানুষকে ফাঁদে ফেলছে। তাই কোনো বার্তা, ওয়েবসাইট বা অর্থ লেনদেনের আগে তা যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
‘আস্ক সিলভার’ ও দ্য কো-অপারেটিভ ব্যাংক সন্দেহজনক বার্তা, ছবি বা ওয়েবসাইট যাচাইয়ের জন্য একটি প্রতারণা শনাক্তকরণ সেবা চালু করেছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সন্দেহজনক কোনো তথ্য যাচাই করে সেটি প্রতারণামূলক কি না, সে বিষয়ে নির্দেশনা পেতে পারবেন।
সূত্র: ডেইলি মিরর।
এমকে

