ব্রিটেনে মানুষের বাড়িতে আনুমানিক ২৪ বিলিয়ন পাউন্ড নগদ অর্থ জমা রয়েছে। মানিব্যাগ, সেফ, কাচের জার, ড্রয়ার এমনকি বিছানার গদির নিচেও নগদ টাকা রেখে দিচ্ছেন অনেকে।
মেট্রোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২ হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ব্রিটেনের অর্ধেকের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক এখনো বাড়িতে নগদ অর্থ রাখেন। যারা নগদ টাকা বাড়িতে রাখেন, তাদের কাছে গড়ে ৮২২ পাউন্ড করে রয়েছে।
মানি সুপারমার্কেটের বিনিয়োগবিষয়ক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং পরিবারগুলোকে জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাড়িতে কিছু নগদ অর্থ রাখার পরামর্শ দেওয়ার কয়েক দিন পরই এই তথ্য প্রকাশ হলো।
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা, চরম আবহাওয়া বা সাইবার হামলার মতো পরিস্থিতিতে অনলাইন ব্যাংকিংয়ে সাময়িকভাবে প্রবেশাধিকার না থাকলে প্রয়োজন মেটাতে নগদ অর্থ, বোতলজাত পানি ও টিনজাত খাবার প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জরিপে দেখা গেছে, বাড়িতে নগদ টাকা রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় জায়গা হলো পার্স বা মানিব্যাগ। নগদ অর্থ রাখা ব্যক্তিদের ৩৫ শতাংশ বাড়িতে রাখা পার্স বা মানিব্যাগে টাকা রাখেন। এছাড়া ১৪ শতাংশ সেফে, ১১ শতাংশ কাচের জারে, ১০ শতাংশ ধাতব বাক্সে এবং ৮ শতাংশ শোবার ঘরের ড্রয়ারে টাকা রাখেন। অল্পসংখ্যক মানুষ এখনো বিছানা বা গদির নিচে নগদ অর্থ রাখেন।
জরিপে অংশ নেওয়া ৩৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা মূলত জরুরি পরিস্থিতির জন্য নগদ অর্থ রাখেন। আর ২৬ শতাংশ দৈনন্দিন কেনাকাটার জন্য বাড়িতে নগদ রাখেন।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, একজন ব্রিটিশ নাগরিকের সঞ্চয়, আইএসএ এবং চলতি হিসাব মিলিয়ে গড়ে ১৮ হাজার ৬১ পাউন্ড রয়েছে। তবে বিনিয়োগে অর্থ রাখার ক্ষেত্রে অনেকেই ঝুঁকি বা লোকসানের আশঙ্কায় পিছিয়ে থাকেন।
মানি সুপারমার্কেটের ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক বিশেষজ্ঞ কারা গ্যামেল বলেন, বিনিয়োগের মূল্য যেমন বাড়তে পারে, তেমনি কমতেও পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সব অর্থ নগদ হিসেবে রাখলেও সমস্যা হতে পারে। কারণ মূল্যস্ফীতির কারণে সময়ের সঙ্গে ওই অর্থের ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
তিনি বলেন, জরুরি সঞ্চয়ের প্রয়োজন মেটানোর পর দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতের লক্ষ্য পূরণে অর্থকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হতে পারে।
সূত্রঃ মেট্রো
এমকে

