ব্রিটেনে মুসলিম নারী পুলিশ কর্মকর্তা ফিওনা শেখ উমরকে লক্ষ্য করে অনলাইনে বর্ণবাদী ও নারীবিদ্বেষী আক্রমণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী আকিলা আহমেদ এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার স্যার মার্ক রাউলি। বুধবার পুলিশ ফেডারেশনের সম্মেলনে পুলিশের কাজে নারীদের অবদানের জন্য বিশেষ পুরস্কার পাওয়ার পর ফিওনা শেখ উমরকে লক্ষ্য করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি বিকৃত ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এসব ছবিতে তাকে আত্মঘাতী হামলাকারীর পোশাকে দেখানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৬ সালের ২৪ অক্টোবর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিওনা শেখ উমর লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। পুলিশের কাজে নারীদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘আউটস্ট্যান্ডিং কন্ট্রিবিউশন টু উইমেন ইন পুলিশিং’ পুরস্কার পেয়েছেন। তবে পুরস্কার পাওয়ার পরই তিনি অনলাইনে বর্ণবাদী ও নারীবিদ্বেষী আক্রমণের শিকার হন।
ইস্ট লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেশাদার পুলিশিং বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারী ফিওনা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে মেট্রোপলিটন পুলিশে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পাবলিক সেফটি অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং বর্তমানে অ্যাসোসিয়েশন অব মুসলিম পুলিশের নারী বিষয়ক নেতৃত্বের দায়িত্বে রয়েছেন।
ফিওনার পুলিশে যোগ দেওয়ার পেছনে রয়েছে তার মেয়ের একটি সরল প্রশ্ন। ছোটবেলায় মেয়েটি তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘তোমার মতো নারীরা কি এই কাজ করতে পারেন?’ মেয়ের সেই প্রশ্নই তাকে পুলিশে যোগ দিতে অনুপ্রাণিত করে। পরবর্তী সময়ে তিনি ‘হিজাব প্রজেক্ট’ চালু করেন। এর মাধ্যমে মেট্রোপলিটন পুলিশের পোশাকবিধিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যাতে মুসলিম নারীরা হিজাব পরেও কোনো বাধা ছাড়াই পুলিশে কাজ করতে পারেন।
ফিওনাকে ঘিরে সাম্প্রতিক অনলাইন আক্রমণ ব্রিটেনে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের বৃহত্তর চিত্র সামনে এনেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্টের গবেষণা অনুযায়ী, গত এক বছরে ব্রিটিশ মুসলিমদের ৫৬ শতাংশ কোনো না কোনো ধরনের বৈষম্যের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। একই সময়ে মুসলিমবিরোধী বিদ্বেষমূলক অপরাধের ঘটনা ১৫ শতাংশ বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ব্রিটেনে প্রতি চারজন মুসলিমের একজন রাস্তায় অথবা গণপরিবহনে শত্রুতামূলক আচরণের শিকার হয়েছেন। দেশটির মসজিদগুলোতেও গড়ে প্রতি পাঁচ দিনে একটি করে হামলার ঘটনা ঘটছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এর একটি উদাহরণ হিসেবে স্কটল্যান্ডে ২০২৬ সালের ৭ মার্চের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় রমজানে ইফতারের জন্য পরিবার ও শিশুরা একত্রিত হওয়ার সময় এক ব্যক্তি স্প্যানার দিয়ে মসজিদের জানালার কাচ ভেঙে দেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুলিশ জানিয়েছিল, তারা কয়েক দিন ওই স্থানে যাবে না।
এসব ঘটনার পরও ব্রিটেনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মুসলিম দেশটিকে বসবাসের জন্য ভালো জায়গা বলে মনে করেন বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অনলাইন ও সরাসরি বিদ্বেষমূলক আচরণ মোকাবিলায় আরও কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের নেতারা এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ ফেডারেশনের চেয়ার পলা ডডস।
প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে চালানো হয়রানি মোকাবিলায় প্ল্যাটফর্ম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বিকৃত ছবি, বর্ণবাদী প্রচারণা এবং নারীবিদ্বেষী আক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এসেছে।
সূত্রঃ এলবিসি নিউজ
এমকে

