19.2 C
London
September 23, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

ভারতীয় রুপির বিপরীতে আরও শক্তিশালী টাকাঃ দুই বছরে মূল্য বেড়েছে ১১.৬ শতাংশ

ভারতীয় রুপির বিপরীতে গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বরের বিনিময় হার অনুযায়ী, এক টাকা দিয়ে প্রায় ০.৭৮ ভারতীয় রুপি পাওয়া যাচ্ছে। দুই বছর আগে একই সময়ে এক টাকা দিয়ে পাওয়া যেত প্রায় ০.৭০ রুপি। এ হিসাবে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য প্রায় ১১.৬ শতাংশ বেড়েছে।

এক বছরের হিসাবেও টাকার শক্তিশালী হওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট। ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা দিয়ে পাওয়া যেত প্রায় ০.৭৩ রুপি, যা ২০২৬ সালের একই দিনে বেড়ে প্রায় ০.৭৮ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে টাকার ক্রয়ক্ষমতা ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে প্রায় ৭.৬ শতাংশ বেড়েছে।

বিপরীত হিসাবেও একই চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল প্রায় ১.২৮ টাকা। এক বছর আগে এর মূল্য ছিল প্রায় ১.৩৮ টাকা। অর্থাৎ এক ভারতীয় রুপি কিনতে এখন আগের তুলনায় প্রায় ৯.৭ পয়সা কম টাকা প্রয়োজন হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যেও ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান দেখা গেছে। ২১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার ক্রস রেট ছিল ১.২৭৮৯ থেকে ১.২৭৯৬ টাকা। অর্থাৎ এক টাকার বিপরীতে প্রায় ০.৭৮১ থেকে ০.৭৮২ ভারতীয় রুপি পাওয়া যাচ্ছিল।

বাজারভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিনিময় হারেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। এক্সই-এর ২২ সেপ্টেম্বরের ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, এক বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে প্রায় ০.৭৭৮৫ ভারতীয় রুপি এবং এক ভারতীয় রুপির বিপরীতে প্রায় ১.২৮৪৫ টাকা ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারত থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কিছুটা কমতে পারে বলে তিনি জানান।

তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য খরচ অপরিবর্তিত থাকলে টাকার মূল্য বাড়ার ফলে একই পরিমাণ ভারতীয় পণ্য ও সেবা কিনতে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের তুলনামূলক কম টাকা ব্যয় হতে পারে।

ভারত থেকে কাঁচামাল, শিল্পের বিভিন্ন উপকরণ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পণ্য আমদানিকারকরাও বিনিময় হারের এই পরিবর্তন থেকে সুবিধা পেতে পারেন। তবে এর প্রভাব সরাসরি বাজারদরে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক পণ্যমূল্য, পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যয়, শুল্ক-কর এবং ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তের ওপর।

ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিরাও টাকার শক্তিশালী অবস্থান থেকে সুবিধা পেতে পারেন। রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি থাকলে ভারতে আবাসন, খাবার, যাতায়াতসহ স্থানীয় খরচ বাংলাদেশি টাকায় হিসাব করলে কিছুটা কম হতে পারে।

তবে শুধু বিনিময় হারই আমদানি পণ্যের চূড়ান্ত দাম বা বিদেশ ভ্রমণের মোট ব্যয় নির্ধারণ করে না। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের বিভিন্ন পরিবর্তনও এসব ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও বিনিময় হারের গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রঃ বাসস\রয়টার্স\এক্সই

এমকে

আরো পড়ুন

দিনাজপুরে ‘বাঁশের চালে’ রান্না হচ্ছে ভাত-পায়েস

‘প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই মূর্তি ভেঙেছিলেন বীরেন’

বেগমপাড়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে কানাডা