রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ফের চাপে পড়তে পারে ভারত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নিষেধাজ্ঞা বিলের অনুমোদন দেওয়ার পর ভারতের উপর শুল্কের চাপ আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই বিল আইনে পরিণত হলে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলোর উপর আমদানি শুল্ক সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারবে ওয়াশিংটন।
রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এক্স-এ এক পোস্টে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর এই বিলে ছাড়পত্র মিলেছে। আগামী সপ্তাহেই বিলটি ভোটাভুটির জন্য তোলা হতে পারে। রুশ তেলের পাশাপাশি রাশিয়ার ইউরেনিয়াম কেনা দেশগুলোর উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব রয়েছে এই বিলে।
এই বিলটি স্পনসর করেছেন রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও ডেমোক্র্যাট সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। গ্রাহামের দাবি, এই আইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ভারত, চিন ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর উপর ‘অসাধারণ চাপ’ তৈরির ক্ষমতা দেবে। উদ্দেশ্য একটাই— রাশিয়ার সস্তা তেল কেনা বন্ধ করা।
গ্রাহামের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউক্রেন শান্তির জন্য নিজের অবস্থান থেকে সরতে রাজি, অথচ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই বিলের মাধ্যমে রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতিকে জ্বালানি জোগানো দেশগুলিকে শাস্তি দেওয়া যাবে। এর আগে সেনেট ও হাউস নেতৃত্ব এই বিলের ভোট পিছিয়ে দেয়। কারণ ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ভারতের পণ্য আমদানির উপর সরাসরি শুল্ক বাড়ানোর পথেই তিনি হাঁটতে চান। উল্লেখ্য, চিনের পর ভারতই রুশ তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা।
গত বছর ট্রাম্প ভারতের পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান। পাশাপাশি রুশ তেল কেনার জন্য আরও ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক জরিমানা আরোপ করা হয়। ফলে কিছু পণ্যে মোট শুল্ক ৫০ শতাংশে পৌঁছে যায়। এতে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের টানাপড়েন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চিনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চিনা পণ্যের ওপর ১৪৫ শতাংশ শুল্ক বসায়। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চিনও মার্কিন পণ্যে ১২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।
সম্প্রতি ট্রাম্প ফের ইঙ্গিত দিয়েছেন, রুশ তেল কেনা বন্ধ না হলে ভারতের উপর নতুন শুল্ক বসতে পারে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানতেন যে তিনি খুশি নন।’ গত মাসে ট্রাম্প ভারতীয় চাল আমদানির ওপরও নতুন শুল্কের হুমকি দেন। হোয়াইট হাউসের একটি বৈঠকে এক কৃষক প্রতিনিধি ভারত, চিন ও থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে ডাম্পিংয়ের অভিযোগ তোলেন।
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনা আপাতত থমকে রয়েছে। ওয়াশিংটন চায়, আমেরিকান কৃষিপণ্যের উপর ভারতের শুল্ক কমুক। তবে নয়াদিল্লি দেশের কৃষক ও দুগ্ধ খাতের সুরক্ষায় অনড় অবস্থান নিয়েছে।
সূত্রঃ বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
এম.কে

