10.1 C
London
October 26, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ভারত-পাকিস্তানকে ২৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকি দিয়ে যুদ্ধ থামিয়েছি, তবু নোবেল পেলাম নাঃ ট্রাম্প

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত থামাতে দুই দেশের ওপর ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাণিজ্য শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, এই অর্থনৈতিক চাপের কারণে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ গোলাগুলি বন্ধ করে এবং সংঘাতের অবসান ঘটে। তবে এ ধরনের কূটনৈতিক ভূমিকার জন্য শান্তিতে নোবেল পুরস্কার না পাওয়ায় আবারও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় সময় শুক্রবার ফ্লোরিডায় এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতসহ আটটি যুদ্ধের মীমাংসা করেছেন বলে দাবি করে তিনি বলেন, এতগুলো সংঘাত থামানোর পরও তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাননি।

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তান যখন সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তখন তিনি দুই দেশকে সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য করতে চাইলে তাদের যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় উভয় দেশের ওপর ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে, যার ফলে দেশ দুটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের সুযোগ হারাতে পারে।

ট্রাম্প দাবি করেন, তার এই হুমকিতে ভারত ও পাকিস্তান ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। পরে তারা গোলাগুলি বন্ধ করে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটে। তবে এটি ট্রাম্পের নিজের বক্তব্য ও দাবি; সংঘাত বন্ধ হওয়ার পেছনে তার শুল্কনীতিই নির্ধারক ভূমিকা রেখেছিল—এমন বিষয়টি ভারত ও পাকিস্তান উভয়ের বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

২০২৫ সালে ভারতের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ভয়াবহ সামরিক সংঘাত শুরু হয়। দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও গোলাগুলির পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ট্রাম্প তখন থেকেই দাবি করে আসছেন, তার মধ্যস্থতা ও বাণিজ্যিক চাপের কারণে সংঘাত থামানো সম্ভব হয়েছিল।

তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিষয়ে ভারতের অবস্থান ভিন্ন। নয়াদিল্লি বরাবরই সংঘাত বন্ধে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার কথা অস্বীকার করে এসেছে। ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় দুই দেশের মধ্যে সামরিক কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত আসে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে।

ভারতের দাবি, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) তার ভারতীয় সমকক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সামরিক কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানান। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পেছনে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকিই প্রধান কারণ ছিল—এমন দাবি নিয়ে দুই দেশের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।

এদিকে, নিজের কথিত কূটনৈতিক সাফল্যের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প আবারও নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি প্রশ্ন করেন, এতগুলো যুদ্ধের মীমাংসা করার পরও তিনি কি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন? এরপর নিজেই উত্তর দেন—না।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের এই বক্তব্য রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচনী প্রচারে তিনি নিজের প্রশাসনের সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে নিজের ভূমিকার বিষয়টিও সামনে এনেছেন।

সূত্রঃ রয়টার্স\ ইন্ডিয়া টুডে

এমকে

আরো পড়ুন

নিউইয়র্কে ভাড়াটিয়ার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের ঘরে আগুন দিলেন বাড়ির মালিক

নিউজ ডেস্ক

ইরানে পারমাণবিক হামলা করবে যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ কূটনীতিকের পদত্যাগ

নিউজ ডেস্ক

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে নিরাপদ থাকবে যেসব দেশ

নিউজ ডেস্ক