দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টির পর অবশেষে ভেনেজুয়েলায় হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাজধানী কারাকাস থেকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে গেছে মার্কিন বাহিনী। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা পর গতকাল শনিবার ভোরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে হামলা ও তাদের বন্দি করার তথ্য দেন।
এরই মধ্যে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলাকে পরিচালনা করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ রদবদল না হওয়া পর্যন্ত আমরাই দেশটি চালাব।’ পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার সব খনি নিয়ন্ত্রণে নেবে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার অবকাঠামো মেরামত করতে এবং দেশের জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করতে যাবে।
একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ার করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে ভেনেজুয়েলায় দ্বিতীয় দফায় আরও অনেক বড় হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে।
ভেনেজুয়েলার হামলার ঘটনায় নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে রাশিয়া। আর অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন। এ ছাড়া কিউবা, ইরানসহ অনেক দেশ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। মাদুরোকে আটকের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিও। তিনি বলেছেন, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
ভেনেজুয়েলায় হামলার আইনি কর্তৃত্বের ব্যাপারে ট্রাম্প কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন কিনা, সে বিষয়টি এখনও স্পষ্ট হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের এই হস্তক্ষেপ ১৯৯০ সালে পানামা আক্রমণের কথা মনে করিয়ে দেয়। ওই সময় পানামার নেতা ম্যানুয়েল আন্তোনিও নরিয়েগাকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা হয়েছিল। ঠিক ৩৬ বছর আগের সেই ঘটনাও ঘটেছিল ৩ জানুয়ারি, শনিবার।
সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজে ফোনে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মাদুরোকে কীভাবে আটক করা হয়েছে, এর বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, মাদুরো ও তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ইও জিমায় তোলা হয় নিউইয়র্কে নেওয়ার জন্য। তাদের আটকের অভিযানটি তিনি ফ্লোরিডার তার মার-এ-লাগো রিসোর্টের একটি কক্ষে বসে দেখেছেন। তিনি বলেন, আমি ঘটনাটি দেখেছি ‘টেলিভিশন শো’র মতো। হামলায় কোনো মার্কিন নাগরিক নিহত হননি কিংবা কোনো মার্কিন বিমানও খোয়া যায়নি।
পরে ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যমে মাদুরোর একটি ছবি শেয়ার করেন। তাতে মাদুরোকে ইউএসএস ইও জিমা জাহাজের ডেকে দেখা যাচ্ছে। ছবিতে মাদুরোকে একটি ভেসে থাকার সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষামূলক হেডফোন পরা অবস্থায় দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া অভিযান চলাকালে ট্রাম্প কীভাবে ঘরে বসে তা দেখছিলেন, সেই ছবিও প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রশাসন।
ট্রাম্প বলেন, মাদুরোকে ম্যানহাটানের ফেডারেল আদালতে মাদক ও অস্ত্রের অভিযোগের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি জানান, অভিযানের সময় অভিজাত মার্কিন বাহিনী মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তাদের শোয়ার ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, নিরাপদে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে পরিচালনার জন্য প্রস্তুত। মার্কিন কোম্পানি তেল অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং তা থেকে অর্থ উপার্জন শুরু করবে। প্রয়োজন হলে দ্বিতীয়বার হামলা চালানো হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করা হবে। দেশটিকে স্বাধীন, ধনী ও নিরাপদ করে গড়া হবে। এ সময় ট্রাম্প জানান, মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্র যা চাইবে তা মেনে নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এটা কারও কারও জন্য অবাক করা বিষয় হতে পারে।
ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শনিবার দেশটির রাজধানী কারাকাসের ফুয়ের্তে তিউনায় বিস্ফোরণে জ্বলছে একটি সামরিক স্থাপনা। নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ, ধোঁয়া ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে- এএফপি
মার্কিন বাহিনীর অভিযান ৩০ মিনিটেরও কম সময় ধরে চলে। এ সময় কমপক্ষে সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। মানুষ রাস্তায় ছুটে আসতে বাধ্য হয়। ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজের মতে, মার্কিন হামলায় কিছু বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। উড়োজাহাজগুলোকে খুব নিচু দিয়ে উড়ে যেতে দেখা যায়।
উটাহর মার্কিন সিনেটর মাইক লি এক্সে পোস্ট করেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাকে হামলা সম্পর্কে অবহিত করেছেন এবং বলেছেন মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে তার বিচার করা হবে। হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে প্রশ্নের জবাব দেয়নি।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি বলেছেন, নিউইয়র্কে মাদুরো ও স্ত্রীকে অভিযোগের মুখোমুখি করা হবে। বন্ডি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে জানান, এই দম্পতি শিগগির যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিচারের মুখোমুখি হবেন।
হামলার পর ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এক বিবৃতিতে জানান, প্রেসিডেন্ট মাদুরোর অবস্থান জানা না থাকায় আইন অনুসারে তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করবেন। রদ্রিগেজ বলেন, প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীর অবস্থান জানি না। তারা বেঁচে আছেন কিনা তার প্রমাণ আমরা চাই।
ট্রাম্প তার পোস্টে বলেন, ‘মাদুরোকে তার স্ত্রীসহ আটক করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযান মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং তারা সফল হয়েছে।’
মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ সামাজিক মাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মাদুরোর আটকের ঘটনায় ভেনেজুয়েলায় একটি নতুন সকালের আগমন ঘটেছে। ‘অত্যাচারী’ মাদুরো চলে গেছেন। পরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও একটি রি-পোস্ট করেন। তাতে বলা হয়, ‘মাদুরো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নন এবং তাঁর শাসন বৈধ নয়।’
এর আগে শুক্রবার কারাকাসে চীনা কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় মাদুরোকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে শেষবারের মতো দেখা যায়।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন হামলার ঘটনা এই অঞ্চলের জন্য সম্ভাব্য উদ্বেগজনক পরিণতি বহন করে।
অন্যদিকে মাদুরো সরকারের সমর্থক ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল বারমুডেজ অভিযানকে ‘অপরাধমূলক আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন। এক্সে তিনি বলেন, আমাদের শান্তির অঞ্চলকে নির্মমভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় হামলা করার জন্য ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি বলেন, একটি সার্বভৌম জাতির ওপর একতরফা হামলা যুদ্ধবাজদের কাজ। এটি যে কোনো দেশ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। শাসন পরিবর্তনের এই স্পষ্ট প্রচেষ্টা কেবল বিদেশে থাকা ব্যক্তিদেরই প্রভাবিত করে না, এটি সরাসরি নিউইয়র্কবাসীর ওপরও প্রভাব ফেলবে। কারণ ভেনেজুয়েলার অনেক নাগরিক নিউইয়র্ক শহরকে নিজের দেশ বলে অভিহিত করেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে এই সমালোচনা করেন।
মেয়র মামদানি বলেন, মাদুরোকে নিউইয়র্কে আনার বিষয়টি আমাকে অবহিত করা হয়েছে। মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে নিউইয়র্ক শহরে কারাবাসে রাখা হবে। তাদের ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের পর কারাকাসের রাস্তায় বেরিয়ে আসে সাধারণ মানুষ। তারা বিভিন্ন স্থানে সমাবেশের চেষ্টা করে। এ সময় বেসামরিক মিলিশিয়ার পোশাকধারী সদস্যদেরও দেখা যায়। অনেকে ‘মাদুরোকে ফিরিয়ে দাও’ স্লোগান দিচ্ছিল। কারাকাসের কিছু অংশ বিদ্যুৎহীন ছিল, তবে গাড়ি চলাচল করতে দেখা যায়।
একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলার সময় বিস্ফোরণগুলো রাতের আকাশকে আলোকিত করছে। মহাসড়ক দিয়ে তখনও গাড়ি চলছিল। কারাকাসের একটি সামরিক ঘাঁটির হ্যাঙ্গার থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। তখন রাজধানীর আরেকটি সামরিক স্থাপনা ছিল বিদ্যুৎবিহীন।
ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন ২১ বছর বয়সী অফিসকর্মী কারমেন হিডালগো। তিনি বলেন, বিস্ফোরণে পুরো মাটি কেঁপে উঠল। এটা ছিল ভয়াবহ। আমরা আবারও বিস্ফোরণ ও বিমানের শব্দ শুনতে পেলাম। কথা বলার সময় তাঁর কণ্ঠস্বর কাঁপছিল।
কারাকাসে বসবাসকারী সাংবাদিক ভেনেসা সিলভা তার জানালা দিয়ে একটি বিস্ফোরণ দেখতে পান। তিনি বিবিসিকে বলেন, বিস্ফোরণের শব্দ বজ্রপাতের চেয়েও শক্তিশালী ছিল। যার ফলে তার বাড়ি কাঁপছিল। তিনি বলেন, ‘আমার হৃৎস্পন্দন হচ্ছিল এবং পা কাঁপছিল। বিস্ফোরণগুলো এত কাছে ছিল, তা দেখে তিনি ভয় পেয়েছিলেন।
শনিবার ভোরে যখন অভিযান চলছিল, তখন ভেনেজুয়েলায় বিদেশি সেনাদের প্রতিহত করার ঘোষণা দেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমিরি পাদ্রিনো লোপেজ। তিনি এক ঘোষণায় বলেন, মাদুরোকে বন্দি করা হয়েছে এবং দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা হাল ছাড়ব না। ভেনেজুয়েলা অবশ্যই জয়ী হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
লোপেজ বলেন, আমরা সর্বদা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করব। আমরা স্বদেশ ও আমাদের জনগণের ঐক্যকে রক্ষা করে যাব। দরকষাকষির মাধ্যমে কেউ ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা কেড়ে নিতে পারবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো দেশের জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের নেতৃত্ব এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক ও সামরিক উচ্চ কমান্ডের ওপর আস্থা রাখুন।
ভেনেজুয়েলার সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মাদুরো সব জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
কারাকাসের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ, আগুন এবং ধোঁয়ার দৃশ্য দেখানো বেশ কয়েকটি ভিডিও পরীক্ষা করেছে বিবিসি। তাতে কোথায় কোথায় হামলা হয়েছে, চিহ্নিত হয়েছে। এ রকম তিনটি অবস্থানের বিষয় নিশ্চিত করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
জেনারেলিসিমো ফ্রান্সিসকো ডি মিরান্ডা বিমানঘাঁটি ওরফে লা কার্লোটায় সামরিক বিমানক্ষেত্রের কাছে দুটি ধূম্রকুণ্ডলী ও বিস্ফোরণ ঘটতে দেখা গেছে। মিরান্ডা রাজ্যের লা গুয়াইরা বন্দর এলাকায় বেশ কয়েকটি কুণ্ডলীর প্রমাণ মিলেছে। সেখানে একটি স্থানে আগুন জ্বলতেও দেখা গেছে। এ ছাড়া পূর্ব মিরান্ডার হিগুয়েরোট বিমানবন্দরের দুটি স্থান থেকে আগুন উঠতে দেখা যায়। সম্ভত সেখানেও বিস্ফোরণ ঘটেছে।
ভেনেজুয়েলায় হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইরান ও রাশিয়া। ইরানের ভাষ্য, এই হামলা ভেনেজুয়েলার জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হামলাকে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র আগ্রাসন বলে অভিহিত করেছে। রাশিয়া জানায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য যে কোনো অজুহাত ভিত্তিহীন। আরও উত্তেজনা বৃদ্ধি রোধ করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে মস্কো।
চীন নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এ ঘটনা সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং মাদুরোর বিরুদ্ধে স্পষ্টতই বলপ্রয়োগ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি-প্রধান কাজা ক্যালাস বলেছেন, আমরা ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সব পক্ষকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, ইইউ বারবার বলেছে, মাদুরোর শাসনের বৈধতার অভাব রয়েছে। সব পরিস্থিতিতে সবাইকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, আমার দেশ ভেনেজুয়েলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় জড়িত ছিল না। আমি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে এবং কী ঘটেছে তার সম্পূর্ণ তথ্য জানতে চাই। আমি স্পষ্ট করে বলতে পারি, আমরা এ হামলায় জড়িত ছিলাম না। জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোর ওপর গত কয়েক মাস ধরে চাপ সৃষ্টি করছিল। দক্ষিণ আমেরিকার জলসীমায় পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদক বহনের অভিযোগে ভেনেজুয়েলার জাহাজগুলোতে একের পর এক হামলা চালাচ্ছিল মার্কিন বাহিনী। সর্বশেষ গত সপ্তাহেও ভেনেজুয়েলার মাদক কারবারিদের ব্যবহৃত একটি জেটিতে ড্রোন হামলা চালায় সিআইএ।
ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, শুক্রবার পর্যন্ত ৩৫টি নৌকায় হামলা হয়েছে। এতে কমপক্ষে ১১৫ জন নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সঙ্গে ‘সশস্ত্র সংঘাতে’ লিপ্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মাদক প্রবেশ বন্ধ করার জন্য ওইসব হামলার ব্যাপারে অনুমোদন দেয় ওয়াশিংটন।
সূত্রঃ এএফপি
এম.কে

