9.8 C
London
October 21, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্য আর নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না ওয়াশিংটনঃ পুরোনো নীতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত মার্কিন দূতের

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের ‘তেলের বিনিময়ে নিরাপত্তা’ নীতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখার আগ্রহও আর আগের মতো নেই ওয়াশিংটনের। তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পুরোপুরি সরে যাওয়ার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। বরং দীর্ঘদিনের সামরিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ অঞ্চলে নিজেদের ভূমিকা নতুনভাবে নির্ধারণ করতে চায় দেশটি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে এসব কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের তুরস্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক। তার বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ফোরামে ব্যারাক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টি এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার কেন্দ্রে নেই। বরং অঞ্চলটি ছেড়ে না গিয়ে সেখানে কীভাবে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখা যায়, সেটিই এখন ওয়াশিংটনের বিবেচনার বিষয়।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি ও ভূমিকা কীভাবে বজায় রাখা যায়, সে বিষয়ে নতুন করে ভাবছে মার্কিন প্রশাসন।

দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি ছিল নিরাপত্তা সহযোগিতা, সামরিক উপস্থিতি এবং জ্বালানি স্বার্থ। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে কৌশলগত প্রভাব ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করে এসেছে।

তবে পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্নের কারণে এই সম্পর্কের ধরন পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

ব্যারাকের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও এখন বুঝতে শুরু করেছে যে নিজেদের সব সমস্যার সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়। আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এসব দেশকে নিজেদের সক্ষমতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অতীত নীতি নিয়েও সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন এই মার্কিন দূত। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে সরকার বা নেতৃত্ব পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন যখনই হস্তক্ষেপ করেছে, তখন অনেক ক্ষেত্রেই সেই সিদ্ধান্তের ভুল স্পষ্ট হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টা এবং সামরিক-রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে বলে তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এ ধরনের হস্তক্ষেপের পর প্রত্যাশিত স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হওয়ার বিষয়টিও নীতিগত পুনর্মূল্যায়নের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ব্যারাকের বক্তব্যের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য থেকে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি, নিরাপত্তা সহযোগিতা কিংবা কৌশলগত স্বার্থ পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে। বরং অঞ্চলটিতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে উপস্থিতি বজায় রাখার পদ্ধতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের বৈশ্বিক গুরুত্ব, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা, ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো এখনো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিবেচনা। ফলে ওয়াশিংটনের নীতিতে পরিবর্তন এলেও এ অঞ্চলে দেশটির ভূমিকা কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর।

দোহা ফোরামে ব্যারাকের বক্তব্য তাই মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে এসে তুলনামূলকভাবে নতুন কৌশল গ্রহণের সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে। তবে ‘তেলের বিনিময়ে নিরাপত্তা’ নীতি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তার বক্তব্যে স্পষ্ট ঘোষণা ছিল না।

সূত্রঃ আল জাজিরা\জিউইশ ইন্সাইডার

এমকে

আরো পড়ুন

কানাডা-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েনঃ ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যান ৭৪%

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির পরোয়ানাকে সমর্থন ব্রিটেন, ইতালি ও স্পেনের

ট্রাম্পকে আমিরাতের ধনকুবেরঃ ইরানে যুদ্ধ শুরু করার ক্ষমতা আপনাকে কে দিয়েছে

নিউজ ডেস্ক