TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

মুক্তিযুদ্ধে বেঁচে ফিরেও রক্ষা পাননি খালেদ মোশাররফঃ বাবার হত্যার স্মৃতিচারণ মেয়ের

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছিলেন তিনি। কিন্তু স্বাধীনতার মাত্র চার বছর পর নিজ দেশেরই কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার হাতে প্রাণ দিতে হয় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফকে। বাবার হত্যার ৫১ বছর পূর্তিতে সেই বেদনাদায়ক ইতিহাস স্মরণ করেছেন তার মেয়ে মাহজাবিন খালেদ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে বাবাকে স্মরণ করেন মাহজাবিন। সেখানে তিনি লেখেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছিলেন তার বাবা। স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে সহযোদ্ধা ও সেনা কর্মকর্তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। অথচ চার বছর পর সেই সহযোদ্ধাদেরই কয়েকজনের হাতে তাকে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয়।

পোস্টে মাহজাবিন লেখেন, ‘আপনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন। দেশের মুক্তির জন্য জীবন বাজি রেখেছিলেন। কিন্তু নিয়তি আপনার জন্য এমন এক নির্মম পরিণতি নির্ধারণ করেছিল, যা ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশেরই কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার হাতে আপনাকে হত্যা করা হয়, যারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আপনার সঙ্গে লড়াই করেছিলেন।’

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর একাধিক সামরিক অভ্যুত্থানের পর সেনা বিদ্রোহের মধ্যে নিহত হন খালেদ মোশাররফ। একই ঘটনায় প্রাণ হারান মুক্তিযুদ্ধের আরও দুই কর্মকর্তা এ টি এম হায়দার ও খন্দকার নাজমুল হুদা। ওই অস্থিরতার মধ্যেই তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করা হয়।

বাবার মৃত্যুর ঘটনা স্মরণ করে মাহজাবিন লেখেন, যে মানুষটি দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করে বেঁচে ফিরেছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাকেই নিজের দেশের মানুষের হাতে প্রাণ হারাতে হয়েছে—এর চেয়ে বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক ঘটনা আর কী হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জন্য সাহস, আত্মত্যাগ এবং শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন তার বাবা। তবে পরিবারের কাছে তিনি কেবল একজন মুক্তিযোদ্ধা বা সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন বাবা, পরিবারের শক্তির উৎস এবং এমন একজন মানুষ, যার শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।

মাহজাবিন জানান, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পার হলেও বাবাকে হারানোর বেদনা তাদের পরিবারকে ছেড়ে যায়নি। সময় পেরিয়ে গেলেও বাবার সঙ্গে কাটানো স্মৃতিগুলো মুছে যায়নি। বরং তার সন্তান হিসেবে তারা এখনো গর্ব অনুভব করেন।

পোস্টের শেষাংশে বাবার সাহস, আত্মত্যাগ ও অবদান চিরকাল পরিবারের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে তার বাবার জন্য জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনা করেন।

সূত্রঃ ডেইলি ওয়াদা

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও তুলা ও তেল কিনতে চায় বাংলাদেশঃ নিক্কেই এশিয়াকে ড. ইউনূস

শেখ হাসিনার বিষয়ে নাক গলাতে চান না রাহুল গান্ধী

ফ্যাসিস্টদের বিদেশে ৫৮২ ফ্ল্যাট চিহ্নিত