সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে অপমানজনক ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্যসংবলিত পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে ভারতের কেরালা পুলিশের এক গ্রেড সাব-ইন্সপেক্টরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তার নাম কে বিজয়েশ। তিনি ইডুক্কি জেলার থোদুপুঝা থানায় কর্মরত ছিলেন।
ইডুক্কি জেলার পুলিশ সুপার এ নাসিমের নির্দেশে পরিচালিত প্রাথমিক তদন্তের পর গত ২৮ আগস্ট বিজয়েশের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের জন্য থোদুপুঝার উপ-পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজয়েশ তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব থেকে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওতে হিজাব পরা এক তরুণীকে ওণাম উৎসবের ঐতিহ্যবাহী ফুল দিয়ে তৈরি নকশা ‘পূকলম’ লাথি মেরে নষ্ট করতে দেখা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর দাবি করা হয়, ঘটনাটি কেরালার এরনাকুলাম জেলায় ঘটেছে। বিজয়েশ ভিডিওটি শেয়ার করে লেখেন, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল কোনো কুকুর পূকলমটি নষ্ট করেছে। পরে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে নাকি ঘটনার ‘আসল সত্য’ বেরিয়ে আসে।
তবে অভিযোগ ওঠে, ভিডিওটির সঙ্গে এমন একটি বিভ্রান্তিকর প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়কে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে। পোস্টটির সঙ্গে মুসলিমদের উদ্দেশে আপত্তিকর ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্যও যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ করা হয়।
বিষয়টি নজরে আসার পর মুসলিম যুব লীগের থোদুপুঝা বিধানসভা কমিটি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। অভিযোগে বলা হয়, একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন পোস্ট সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এবং একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
অভিযোগ পাওয়ার পর ইডুক্কি জেলার পুলিশ সুপার বিষয়টি তদন্তের জন্য থোদুপুঝার উপ-পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়ে বিজয়েশের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বরখাস্তের আদেশে বলা হয়েছে, পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকেও বিজয়েশ অন্যায়ভাবে ওই পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। তার এমন আচরণ গুরুতর অসদাচরণ এবং এতে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে বিজয়েশের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে। মুন্নারের উপ-পুলিশ সুপারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিভাগীয় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বহাল থাকবে। তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্রঃ দ্য নিউজ মিনিট\টাইমস অব ইন্ডিয়া
এম.কে

