16.7 C
London
October 9, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও যোগাযোগের সুযোগঃ বাংলাদেশে স্টারলিংকের নতুন সেবা

বাংলাদেশে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবা চালু হয়েছে। প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থাকা এলাকাতেও যোগাযোগের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এই সেবা চালু করেছে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক। এ উদ্যোগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে স্পেসএক্সের বাণিজ্যিক বিক্রয় বিভাগের প্রধান স্টেফানি বেডনারেকের একটি পোস্ট পুনঃপ্রকাশ করে মাস্ক লেখেন, ‘স্টারলিংক বাংলাদেশকে সংযুক্ত করছে!’ তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মোবাইল সংযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগটি সামনে আসে।

স্টেফানি বেডনারেক জানান, স্টারলিংক মোবাইলের মাধ্যমে বাংলাদেশের লাখো মানুষ অতিরিক্ত সংযোগ সুবিধা পাবেন। বিশেষ করে যেসব এলাকায় প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের সংকেত পৌঁছায় না, সেখানে এই প্রযুক্তি যোগাযোগের বিকল্প সুযোগ তৈরি করবে।

স্টারলিংক জানিয়েছে, বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে সেবাটি চালু করা হয়েছে। এর ফলে সামঞ্জস্যপূর্ণ মোবাইল ফোন ও বাংলালিংকের সিম ব্যবহারকারী গ্রাহকেরা প্রচলিত সেলুলার নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থেকেও নির্দিষ্ট কিছু অ্যাপের মাধ্যমে বার্তা পাঠানো, অবস্থান ভাগাভাগি এবং অন্যান্য যোগাযোগসুবিধা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

উপকূলীয় অঞ্চল, প্রত্যন্ত জনপদ এবং সমুদ্রের কাছাকাছি এলাকায় এই সেবা বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে। এসব অঞ্চলে প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের সংকেত দুর্বল কিংবা অনুপস্থিত থাকায় যোগাযোগে সমস্যায় পড়তে হয় অনেককে। স্যাটেলাইটের সঙ্গে সরাসরি মোবাইল সংযোগ স্থাপনের প্রযুক্তি সেই সীমাবদ্ধতা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

জেলেরা, সমুদ্রে কর্মরত মানুষ, ভ্রমণকারী, প্রত্যন্ত এলাকার ব্যবসায়ী ও পরিবারগুলো এই সেবার সম্ভাব্য সুবিধাভোগী। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জরুরি পরিস্থিতি কিংবা দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যাহত হলে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সেবার কার্যকারিতা সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্যাটেলাইটের আওতা, ফোনের সামঞ্জস্য এবং চালু থাকা সুবিধার ওপর নির্ভর করবে।

বাংলাদেশের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের গভীর সমুদ্র এলাকাতেও স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল প্রযুক্তি যোগাযোগের সুযোগ বাড়াতে পারে। উপকূল থেকে দূরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে ও সমুদ্রে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কে যোগাযোগের জন্য সাধারণত মোবাইল টাওয়ারের প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল প্রযুক্তিতে উপযুক্ত স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ মোবাইল ফোনে সংযোগ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়। ফলে প্রচলিত নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা কিছু এলাকাতেও যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দ্য উইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় এ ধরনের সেবা চালুর ক্ষেত্রে বাংলালিংকের উদ্যোগটি প্রথম। তবে সেবাটির নির্দিষ্ট মূল্য, সব সামঞ্জস্যপূর্ণ ফোনে সুবিধার প্রাপ্যতা এবং কোন কোন অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ছাড়া সেবাটির পূর্ণ পরিধি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

বাংলাদেশে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবা চালু হওয়াকে দুর্গম এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণের একটি নতুন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এর আওতা ও সুবিধা বাড়লে উপকূলীয় জনপদ, গভীর সমুদ্র এবং প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের দুর্বল এলাকাগুলোতে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

সূত্রঃ দ্য উইক

এমকে

আরো পড়ুন

ওসমান হাদিকে গুলির অভিযুক্ত ফয়সালের সাথে একটি বড় ইসলামি দলের কতিপয় নেতার সম্পৃক্ততা পেয়েছে গোয়েন্দারা

তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থা পুনর্বহাল হওয়ায় দেশ গণতন্ত্রের মহাসড়কে হাঁটবেঃ অ্যাটর্নি জেনারেল

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নিহাদ রহমানের নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠান ২৩০ কোটি ডলারে কিনছে উবার