টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারতের মাটিতে টুর্নামেন্ট আয়োজনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সম্প্রতি আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) একটি চিঠি দিয়েছে, যেখানে তিনটি কারণে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার বাফুফে ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল চিঠিটির বিষয়বস্তু প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগ তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেছে—বাংলাদেশ দলের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে যদি বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে দলের নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়তে পারে।
চিঠিতে আরও দুটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। এর মধ্যে দ্বিতীয়টি হলো—বাংলাদেশ দলের সমর্থকরা যদি জাতীয় দলের জার্সি পরে প্রকাশ্যে চলাফেরা করেন। তৃতীয় কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, তত বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
আইসিসির এই অবস্থানকে ‘উদ্ভট’ ও ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, আইসিসি যদি আশা করে বাংলাদেশ তাদের সেরা বোলারকে বাদ দিয়ে দল গঠন করবে, সমর্থকরা জাতীয় জার্সি পরতে পারবে না এবং একটি সার্বভৌম দেশের নির্বাচন সূচি পরিবর্তন করা হবে—তাহলে এর চেয়ে অবাস্তব প্রত্যাশা আর হতে পারে না।
ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ভারতে বর্তমানে যে উগ্র সাম্প্রদায়িক পরিবেশ এবং বাংলাদেশ-বিদ্বেষী মনোভাব বিরাজ করছে, বিশেষ করে গত ১৬ মাস ধরে চলা ধারাবাহিক ক্যাম্পেইনের প্রেক্ষাপটে সেখানে বাংলাদেশের জন্য ক্রিকেট খেলার পরিবেশ নেই। মোস্তাফিজকে ঘিরে আইসিসির নিরাপত্তা উদ্বেগ সেই বাস্তবতাকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে বলেন, আইসিসি কোনো একক দেশের প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণে চলতে পারে না। তাঁর মতে, ক্রিকেটের ওপর কোনো দেশের একচেটিয়া কর্তৃত্ব থাকা উচিত নয়। আইসিসি যদি সত্যিকার অর্থে একটি বৈশ্বিক সংগঠন হয়ে থাকে এবং ভারতের সিদ্ধান্তে নির্ভরশীল না হয়, তাহলে বাংলাদেশের জন্য শ্রীলঙ্কা বা অন্য কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলার সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত।
তিনি আরও জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে পাকিস্তান বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তান বা সংযুক্ত আরব আমিরাতে খেলা হলে বাংলাদেশের কোনো আপত্তি নেই।
সবশেষে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, যেখানে একটি দলের খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না এবং সাম্প্রদায়িক চাপের মুখে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড কাউকে খেলানো না হোক বলে ইঙ্গিত দেয়, সেখানে ভারতের কোনো ভেন্যুতেই বাংলাদেশের জন্য খেলার পরিবেশ নেই। তার মতে, এই বাস্তবতা আইসিসির সামনে এখন সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত।
সূত্রঃ প্রথম আলো
এম.কে

