রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একটি আলোচনায় পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে দেওয়া বিস্ফোরক মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। জনপ্রিয় রাষ্ট্র-সমর্থিত টক শো ‘ফুল কন্টাক্ট’-এ রাজনৈতিক বিশ্লেষক দিমিত্রি সাইমস দাবি করেন, “পশ্চিমা প্রতিপক্ষদের জীবন-মৃত্যুর নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার হাতে” এবং “পশ্চিমা নেতারা ততদিনই বেঁচে আছেন, যতদিন আমরা তাদের বেঁচে থাকতে দিচ্ছি।”
অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক ছিলেন ভ্লাদিমির সলোভিয়ভ, যিনি পশ্চিমাবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত। আলোচনায় সাইমস আরও বলেন, রাশিয়ার উচিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলোকে সম্ভাব্য অংশীদার নয়, বরং সরাসরি শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘শক্তির ভাষা’ ব্যবহার করা।
মন্তব্যগুলো যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হলেও বিশ্লেষকদের মতে, এগুলো রুশ রাষ্ট্র-সমর্থিত গণমাধ্যমের ভাষ্যকারের বক্তব্য; ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা বা সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা নয়।
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ সময় রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ভাষ্যকার এবং দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা প্রায়ই ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে পারমাণবিক সক্ষমতা ব্যবহারের ইঙ্গিতপূর্ণ বা কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে আসছেন।
অন্যদিকে, ক্রেমলিন এবং রুশ কূটনীতিকরা অভিযোগ করে আসছেন যে, ন্যাটো ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিয়ে সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার ঝুঁকি তৈরি করছে। তবে রাশিয়ার সরকারি সামরিক নীতিমালায় বলা হয়েছে, কেবল রাষ্ট্রের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়লে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এমন বক্তব্য আন্তর্জাতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। তবে এসব মন্তব্যকে রাশিয়ার আনুষ্ঠানিক সামরিক নীতি বা সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। বরং এগুলো চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে প্রচারিত রাজনৈতিক ও প্রচারণামূলক বক্তব্য হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্রঃ দ্য ডেইলি এক্সপ্রেস
এম.কে

