ইউক্রেন থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত নাগরিকদের আশ্রয় দেওয়ার উদ্দেশ্যে চালু করা ব্রিটেনের “হোমস ফর ইউক্রেন” ও সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মসূচির আওতায় আফগানিস্তান ও নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের হাজারো নাগরিকের প্রবেশ নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফের অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে প্রকাশ, প্রায় ৩ হাজার ৫০০ ভিসা দেওয়া হয়েছে ১১২টি দেশের নাগরিকদের—যার মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, নাইজেরিয়া, ইরাক, ইরান, ভারত এবং ফিলিস্তিনি অঞ্চলসহ একাধিক দেশ। এই ভিসাগুলো মূলত ইউক্রেনীয়দের জন্য তৈরি দুইটি মানবিক স্কিমের মাধ্যমে দেওয়া হয়।
সরকারি নীতিমালায় এই দুইটি কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের দ্রুত আশ্রয় দেওয়ার জন্য। একটি স্কিমে ইউক্রেনীয়রা যুক্তরাজ্যে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন, অন্যটি হলো “হোমস ফর ইউক্রেন” স্পনসরশিপ প্রোগ্রাম, যেখানে ব্রিটিশ নাগরিকরা ইউক্রেনীয়দের থাকার ব্যবস্থা করেন।
তবে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ২ লাখ ৭৯ হাজারের বেশি ভিসার মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৪৬৪টি ভিসা পেয়েছেন ইউক্রেনীয় নন এমন নাগরিকরা—যা মোট অনুমোদনের একটি ছোট কিন্তু বিতর্কিত অংশ।
এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি রয়েছেন রাশিয়ার নাগরিকরা (৫৮৮ জন), এরপর নাইজেরীয় (৪০৮), আফগান (২৯৪), ইরাকি (১৬১), মালডোভান (১৫২), তুর্কি (১৪৯), ভারতীয় (১২৪), বেলারুশীয় (১০৭), ইরানীয় (১০৭) এবং মিশরীয় (১০৬) নাগরিকরা।
এছাড়া ঘানা, সিরিয়া, লিবিয়া, ফিলিস্তিন, ভিয়েতনাম, ইয়েমেন, চিলি ও আর্জেন্টিনার কিছু নাগরিকও এই ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন।
এই তথ্য প্রকাশের পর ব্রিটিশ রাজনীতিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র ক্রিস ফিলিপ দাবি করেছেন, এই স্কিম “ইউক্রেনীয়দের জন্য নির্ধারিত হলেও তা অন্য দেশের নাগরিকদের প্রবেশের পথ হয়ে উঠেছে” এবং অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা প্রয়োজন।
অন্যদিকে রিফর্ম ইউকে দলের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফ বলেন, এই পরিস্থিতি দেখায় যে ব্রিটেনের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়েছে।
মাইগ্রেশন ওয়াচ ইউকে’র চেয়ারম্যান আলপ মেহমেত মন্তব্য করেছেন, সংখ্যাটি তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও এটি দেখায় যে ব্যবস্থাটি কতটা শিথিলভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “হোমস ফর ইউক্রেন” স্কিম মূলত ইউক্রেনীয় নাগরিকদের জন্যই তৈরি। তবে কিছু ক্ষেত্রে পারিবারিক সদস্য হিসেবে তৃতীয় দেশের নাগরিকরা যোগ্য হতে পারেন, যদি তারা ইউক্রেনীয় পরিবারের সঙ্গে একত্রে আবেদন করেন।
বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ পূর্বের একটি আদালতের সিদ্ধান্ত আপিলে বাতিল করেন, যেখানে গাজার একটি পরিবারকে এই স্কিমের আওতায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
সরকার আরও জানিয়েছে, এই ভিসা কর্মসূচি সাময়িক এবং এটি স্থায়ী বসবাসের পথ তৈরি করে না, বরং ইউক্রেন সংকট শেষ হলে শরণার্থীদের স্বদেশে ফেরার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হচ্ছে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

