12.8 C
London
April 4, 2025
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের এসাইলাম সেন্টার থেকে বর্ণবিদ্বেষী বার্তা প্রচারের অভিযোগ, তদন্ত শুরু

যুক্তরাজ্যের একটি আশ্রয় প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মাইটি’র অফিসারদের ব্যবহৃত পোর্টেবল রেডিওর মাধ্যমে বর্ণবিদ্বেষী বার্তা প্রচারিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে এই ঘটনার জন্য তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

অত্যন্ত আপত্তিকর বার্তাটি, যেখানে বলা হয়েছিল— “ফাক অফ, তোমরা তোমাদের নিজের দেশে ফিরে যাও”, এটি কেন্টের ম্যানস্টন আশ্রয় কেন্দ্রে শোনা গিয়েছিল বলে জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র দপ্তর এবং এর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মাইটি (Mitie) এই ভাষার ব্যবহারকে নিন্দা জানিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ম্যানস্টনে গত শুক্রবার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বার্তাটিকে বর্ণবিদ্বেষী ও অপেশাদার আচরণ হিসেবে নিন্দা জানানো হয়েছে। ব্যবহৃত পোর্টেবল রেডিওর ধরণ এমন যে, কে বা কোন ব্যক্তি এই বার্তা প্রচার করেছে তা শনাক্ত করা সহজ নয়।

ম্যানস্টনে কর্মরত এক সূত্র জানিয়েছেন, “দুপুর তিনটার দিকে কেউ রেডিওতে এই আপত্তিকর বার্তাটি প্রচার করে। এর আগে কখনো আমাদের রেডিওতে এমন বার্তা শোনা যায়নি।”

স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সূত্র নিশ্চিত করেছে এই ঘটনার পর ম্যানস্টনে ঠিকাদারদের ব্যবহৃত রেডিওর একটি পরিকল্পিত উন্নয়ন দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন রেডিওগুলো বার্তা শনাক্ত করার সুবিধা দেবে।

এখনও জানা যায়নি কতজন নতুন আসা আশ্রয়প্রার্থী এই বার্তা শুনেছেন। ছোট নৌকায় চ্যানেল পার হয়ে আসা ম্যানস্টনের অনেক বাসিন্দা পেট্রোল পোড়া ও হাইপোথার্মিয়ার মতো সমস্যায় ভুগছেন। অনেকে তাদের নিজ দেশ বা যাত্রাপথে নির্যাতন ও পাচারের মতো ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন।

যদিও ম্যানস্টনে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা বিভিন্ন রকম, তবে সুদান ও ইরিত্রিয়ার মতো দেশ থেকে আসা ব্যক্তিরা দীর্ঘ ও কষ্টকর যাত্রা করে এসেছেন। যেখানে লিবিয়ার মতো দেশে শরণার্থীদের ওপর নির্যাতন ব্যাপকভাবে ঘটে।

স্বরাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “আমরা এই ভাষা ও আচরণকে সম্পূর্ণরূপে নিন্দা জানাই। আমরা আশা করি, আমাদের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মাইটি দ্রুত এই অভিযোগের তদন্ত করবে।”

মাইটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, “এই ধরনের ভাষা অগ্রহণযোগ্য এবং আমরা প্রত্যাশা করি যে, যেকোনো কর্মী সর্বোচ্চ পেশাদার মান বজায় রাখবে। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা তদন্ত শুরু করেছি। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে সম্মতি অনুযায়ী একটি নতুন বন্ধ-নেটওয়ার্ক রেডিও ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।”

ম্যানস্টন কেন্দ্রে এর আগেও বিভিন্ন সমস্যা দেখা গেছে। কারাগার পরিদর্শনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসন পরিদর্শক এবং ইউরোপীয় কমিটি ফর দ্য প্রিভেনশন অব টর্চার এই কেন্দ্রের সমালোচনা করেছে। ২০২২ সালে এই সেন্টারটিতে অতিরিক্ত ভিড় হয়ে পড়েছিল, যেখানে ডিপথেরিয়া ও স্ক্যাবিসের প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল এবং নিরাপত্তারক্ষীদের দ্বারা হামলার অভিযোগও উঠে এই সেন্টারে।

২০২২ সালে ম্যানস্টনের একাধিক ব্যর্থতার বিষয়ে একটি তদন্ত শুরু হয়েছে, যদিও এর কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এটি প্রথমবার নয় যখন মাইটির ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ উঠেছে। ২০২১ সালে একটি কর্মসংস্থান ট্রাইব্যুনালে মাইটি ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তারা স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষে লোকজনকে বহিষ্কারের সময় কৃষ্ণাঙ্গ সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে ‘কটন পিকার্স’ (সুতো তুলনাকারী) শব্দটি ব্যবহার করেছিল, যা বর্ণবাদী বলে বিবেচিত হয়। তবে আদালত জাতিগত এবং শারীরিক অক্ষমতার বৈষম্যের অভিযোগ পরবর্তীতে খারিজ করে দেয়।

২০২২ সালে মাইটি স্বীকার করেছিল যে, তাদের কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছিল, তবে তারা বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জানাতে ব্যর্থ হয়। মাইটি যুক্তরাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম বৃহৎ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

আশ্রয় অধিকার বিষয়ক দাতব্য সংস্থা অ্যাসাইলাম ম্যাটার্স-এর পরিচালক লুইস ক্যালভি বলেছেন, “এটি একটি ভয়াবহ ঘটনা। ম্যানস্টনের মানুষ আমাদের দেশে এসে সাহায্য চেয়েছে। এটি এমন প্রথম ঘটনা নয় যেখানে আশ্রয় ব্যবস্থার মাধ্যমে লাভবান হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। আমরা সরকারকে তাদের ঠিকাদারদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করার আহ্বান জানাই এবং এমন একটি আশ্রয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানাই যা সম্মান, মর্যাদা ও মানবাধিকারের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে।”

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যানস ফর রাইটস নেটওয়ার্কের পরিচালক ম্যাডি হ্যারিস বলেন, “মানুষ আমাদের জানায় তারা তাদের দেশে চরম শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছে, মৃত্যুর সাক্ষী হয়েছে, জোরপূর্বক শ্রমে নিযুক্ত করা হয়েছে বা আটক কেন্দ্রে বন্দি ছিল। তারা স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং মারাত্মক মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যুক্তরাজ্যে শরণার্থীদের নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করা উচিত এবং তাদের পুনরুদ্ধারের জন্য সহায়তা প্রদান করা উচিত।”

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে
০৩ এপ্রিল ২০২৫

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ!

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার নতুন বাণিজ্য চুক্তি

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের নটিংহ্যাম কাউন্সিলের দেউলিয়া ঘোষণা