আটলান্টিক মহাসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ অভিযানের পর যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে সরাসরি পারমাণবিক হামলার হুমকি দিয়েছে রাশিয়ার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সামরিক মহল।
ক্রেমলিনঘনিষ্ঠ একাধিক কট্টরপন্থী নেতা এই ঘটনাকে ‘রাশিয়ার বিরুদ্ধে আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করে কঠোর ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যা বিশ্বকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাশিয়ার ক্ষোভের প্রভাব পড়েছে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের ওপর।
দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলায় ডিনিপ্রোপেত্রোভস্ক ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চল প্রায় সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড শীতের মধ্যে বিদ্যুৎ, গরমের ব্যবস্থা ও পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, বিপর্যস্ত হয় ট্রেন, ট্রাম ও হাসপাতাল সেবা। প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
এই উত্তেজনার সূত্রপাত রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর একটি তেলবাহী জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে জব্দ হওয়ার ঘটনায়। পুতিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করলেও সেই আহ্বান উপেক্ষিত হয়। ঘটনার পর রুশ প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে অনুপস্থিত থাকলেও ক্রেমলিনপন্থী কট্টর গোষ্ঠীগুলো প্রকাশ্যে প্রতিশোধের দাবি তোলে।
রুশ সংসদের প্রতিরক্ষা কমিটির উপ-চেয়ারম্যান আলেক্সেই ঝুরাভলেভ দাবি করেন, এই জাহাজ জব্দ “খোলাখুলি জলদস্যুতা” এবং রাশিয়ার ভূখণ্ডে আঘাতের শামিল। তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সামরিক নীতিতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে এবং প্রতিক্রিয়া হতে হবে “দৃঢ় ও তাৎক্ষণিক”।
আরেক কট্টরপন্থী এমপি ও রিজার্ভ কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আন্দ্রেই গুরুলেভ পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি কৃষ্ণসাগরগামী জাহাজ থামানো, তল্লাশি চালানো এমনকি ডুবিয়ে দেওয়ার কথাও বলেন। পাশাপাশি ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহকারী পশ্চিমা কারখানাগুলোতে হামলার ইঙ্গিত দেন।
রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “রাশিয়ার সঙ্গে খেলা করা উচিত নয়।” একই সঙ্গে ক্রেমলিনঘনিষ্ঠ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো রাশিয়ার ধীর প্রতিক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও কঠোর সামরিক জবাবের দাবি তোলে।
এদিকে ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলার ফলে ডিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ এখনও বিদ্যুৎবিহীন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির জন্মস্থান ক্রিভি রিহ শহরে ড্রোন হামলায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে রাশিয়ার পারমাণবিক হুমকি শুধু ইউরোপ নয়, পুরো বিশ্বের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে আন্তর্জাতিক সংঘাত ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

