যুক্তরাজ্যে অভিবাসন সংকট আরও খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম গত মাসে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে আসা বন্ধে লেবার সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও এই সংকট কমার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।
সাবেক ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, অভিবাসীদের আবাসনের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তে যেসব এলাকার বাসিন্দারা প্রভাবিত হচ্ছেন, তাদের উদ্বেগ ও আপত্তি রাজনীতিকরা যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
টকটিভির উপস্থাপক কেভিন ও’সুলিভানও এ বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে পিডিংটন গ্রামে এক হাজারের বেশি পুরুষ অভিবাসীকে আবাসনের সিদ্ধান্তের পর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কেভিনের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে একাধিক ব্যক্তির বসবাসের জন্য ব্যবহৃত বাড়ি বা এইচএমওতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে অভিবাসনবিরোধী ক্ষোভের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
কেভিনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে মাইক নামের ওই সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, পিডিংটনের লিবারেল ডেমোক্র্যাট সংসদ সদস্য ক্যালাম মিলার তার নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দাদের উদ্বেগ যথাযথভাবে তুলে ধরছেন না।
এর আগে, পিডিংটনের গ্রামবাসীরা তাদের এলাকায় অভিবাসীদের আবাসনের পরিকল্পনার প্রতিবাদে যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লেবার সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গ্রামের কাছের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক একটি স্থাপনায় ১ হাজার ২৫০ জন পুরুষ অভিবাসীকে রাখার কথা রয়েছে।
সরকার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে বলে দাবি করে মাইক বলেন, “সরকারের মন্ত্রীরা সাধারণ মানুষের কথা শুনছেন না। আমরা কী ভাবছি, তা নিয়ে তাদের আগ্রহ নেই। তারা একটি বহুসাংস্কৃতিক সমাজ গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণ ও সরকারের মধ্যে একটি বাস্তব সমস্যা তৈরি হয়েছে, আর পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে।”
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস
এমকে

