TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতা

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ ক্ষমতা যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর অনুমানিত ৩৫,০০০ মৃত্যুতে অবদান রাখছে, এবং সরকার এই সমস্যার নিয়ন্ত্রণ থেকে ‘অনেক দূরে’ রয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য ন্যাশনাল অডিট অফিস।

যুক্তরাজ্যে সুপারবাগের সংখ্যা বাড়ছে, এবং সরকার এগুলো মোকাবিলায় ব্যর্থ হচ্ছে বলে মন্ত্রীদের সতর্ক করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ ক্ষমতা (AMR) – যেখানে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুগুলো অ্যান্টিবায়োটিক ও অন্যান্য ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে ওঠে, ফলে ঐসব ওষুধ কার্যকারিতা হারায় – একে “বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জনস্বাস্থ্য ও উন্নয়ন সংকটগুলোর মধ্যে একটি” হিসাবে বর্ণনা করেছে।

যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর ৩৫,০০০-এরও বেশি মৃত্যুর জন্য অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স দায়ী বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে সরকার এই সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের লক্ষ্যে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল অডিট অফিস।

যদি এই সংকট প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে স্বাস্থ্য, গড় আয়ু, এনএইচএস (জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা) এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে সতর্ক করেছে এই সংস্থা।

বুধবার প্রকাশিত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলায় সরকারের কার্যক্রম পর্যালোচনার এক প্রতিবেদনে ন্যাশনাল অডিট অফিস জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য সরকারের অগ্রগতি “সীমিত”।

ন্যাশনাল অডিট অফিস বলেছে, সরকার এই সমস্যাকে গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে, তবে সংক্রমণের হার কমানো, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের সঠিক ব্যবহার এবং নতুন চিকিৎসা উন্নয়নের মাধ্যমে সাধারণ অসুখগুলোর কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা থেকে এখনো অনেক দূরে রয়েছে।

২০১৯ সালে নির্ধারিত পাঁচটি অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যের মধ্যে মাত্র একটি – খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রাণীদের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পরিমাণ কমানো – অর্জন করা গেছে। ২০১৮ সালের তুলনায় মানবদেহে ওষুধ-প্রতিরোধী সংক্রমণের হার ১৩% বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও এটি ১০% কমানোর লক্ষ্য ছিল।

ন্যাশনাল অডিট অফিস-এর প্রধান গ্যারেথ ডেভিস বলেছেন: “অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ ক্ষমতা একটি বড় জনস্বাস্থ্য হুমকি, এবং এটি মোকাবিলা করা একটি বহুমুখী চ্যালেঞ্জ।

সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত ফলাফল সীমিত এবং দীর্ঘমেয়াদে এই ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যকে আরও সক্ষম হতে হবে।

সরকারের অবশ্যই বিবেচনা করা উচিত, তার বর্তমান অঙ্গীকার এবং অন্যান্য প্রচেষ্টা ২০ বছরের মধ্যে এ,এম,আর নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য যথেষ্ট কিনা।”

কোভিড-১৯ মহামারি এবং জনসংখ্যাগত পরিবর্তনগুলোও এ,এম,আর মোকাবিলায় সমস্যা সৃষ্টি করছে। হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে আগে থেকে বিদ্যমান জটিল রোগ থাকার প্রবণতা বেড়েছে, ফলে তারা দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

এছাড়া, পুরনো ও অরক্ষিত এনএইচএস ভবনগুলো পরিষ্কার রাখা এবং সংক্রামিত রোগীদের আলাদা রাখার কাজ আরও কঠিন করে তুলছে।

২০৫০ সালের মধ্যে, প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী ১.৯১ মিলিয়ন মানুষ সরাসরি এ,এম,আর-এর কারণে মারা যাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা ২০২১ সালে ১.১৪ মিলিয়ন ছিল। এ,এম,আর আংশিকভাবে ৮.২ মিলিয়ন মৃত্যুর কারণ হবে, যা ২০২১ সালে ছিল ৪.৭১ মিলিয়ন।

পার্লামেন্টের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান স্যার জিওফ্রে ক্লিফটন-ব্রাউন বলেছেন:
“বিশ্বকে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ ক্ষমতার সমস্যাকে গুরুত্বের সাথে নিতে হবে, এবং যুক্তরাজ্যের সরকারকে উদাহরণ তৈরি করতে হবে।

যদিও যুক্তরাজ্য এই সমস্যা সমাধানে উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, এখন পর্যন্ত অগ্রগতি সীমিত এবং জনগণের সচেতনতা কম।

কোভিড-১৯-এর ছায়ায়, এই ‘নীরব মহামারি’ জনস্বাস্থ্য ও এনএইচএস রক্ষার জন্য সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

যদি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ ক্ষমতা কমানোর জন্য কার্যকর পরিবর্তন আনা না যায়, তবে এটি মানবজীবন এবং আমাদের সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠবে।”

স্বাস্থ্য ও সমাজসেবা বিভাগ (Department of Health and Social Care) বলেছে, তারা এ,এম,আর-কে “একটি গুরুতর বৈশ্বিক হুমকি” হিসাবে স্বীকৃতি দেয় এবং এটি মোকাবিলার জন্য একটি পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন:
“আমরা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি করেছি, যার মধ্যে মাংস উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পরিমাণ কমানো এবং নতুন চিকিৎসা উদ্ভাবনে উৎসাহিত করার জন্য বিশ্বের প্রথম সাবস্ক্রিপশন মডেল চালু করা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।”

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫A

আরো পড়ুন

সাবিনা নেছার জানাজা শুক্রবার ইস্ট লন্ডন মসজিদে

যুক্তরাজ্যে বাড়ছে মন্দার ভাব, বাড়ির দাম কমছে

নাইটাজিন সেবন করে যুক্তরাজ্যের রাস্তায় মানুষ মারা যাচ্ছে