TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অ্যালবার্ট ব্রিজের মোড়ে ১৪ মাসে জরিমানা আদায় ২৬ লাখ পাউন্ড

লন্ডনের অভিজাত এলাকা কেনসিংটন ও চেলসিতে অবস্থিত অ্যালবার্ট ব্রিজের উত্তর পাশের একটি সড়কসংযোগস্থল নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মাত্র ১৪ মাসে এই একটি জায়গা থেকেই চালকদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে প্রায় ২৬ লাখ পাউন্ড জরিমানা, যা একে লন্ডনের সবচেয়ে বেশি আয় করা ‘পেনাল্টি স্পট’ হিসেবে পরিচিত করেছে।

 

কেনসিংটন অ্যান্ড চেলসি কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে ওই মোড়ে ৩৬ হাজারের বেশি পেনাল্টি চার্জ নোটিশ (পিসিএন) ইস্যু করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ঐতিহাসিক অ্যালবার্ট ব্রিজ রক্ষায় যানবাহনের ওজনসীমা চালু করা হলেও, বড় যানবাহন নিয়ম ভেঙে সেতুর উত্তর পাশের প্রবেশপথ ব্যবহার করায় ক্যামেরায় ধরা পড়ছে নিয়মিত।

সেতুতে প্রবেশের আগে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বসানো হলেও প্রতিদিন হাজার হাজার ভারী যানবাহন ওই পথে চলাচল করছে। এর ফল হিসেবে জরিমানার অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ ৬৪ হাজার ২৩০ পাউন্ডের বেশি। কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেতু দিয়ে চলাচল করতে হলে যানবাহনের ওজন ৩ টনের নিচে এবং প্রস্থ ৬ ফুট ৬ ইঞ্চির কম হতে হবে।

কাউন্সিলের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেড–টু তালিকাভুক্ত এই ঐতিহাসিক সেতুটি নাজুক হওয়ায় ভারী যান চলাচলে ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। সাধারণ ছোট ও মাঝারি ভ্যান সাধারণত এই সীমার মধ্যে থাকলেও, লুটন ভ্যান, আধুনিক ট্রাক এবং কিছু এসইউভি—যেমন রেঞ্জ রোভার—ওজনসীমার কাছাকাছি বা তা অতিক্রম করতে পারে।

বাস্তবে এই বিধিনিষেধ এলাকাটিতে তীব্র যানজট তৈরি করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। কর্মদিবসের ব্যস্ত সকালে বড় যানবাহনগুলো প্রবেশপথে আটকে গেলে পেছনের গাড়িগুলোও থেমে যায়। এতে অনেক চালক সেতুর সামনে থাকা হলুদ বক্সে আটকে পড়েন এবং সেখান থেকে আলাদা জরিমানার ঝুঁকিতে পড়েন।

সেতুর আগে থাকা দুটি হলুদ বক্স ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (টিএফএল)–এর নিয়ন্ত্রণে। টিএফএল জানিয়েছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ওই স্থানে ৭২টি পিসিএন ইস্যু করা হয়েছে এবং জরিমানার অর্থ আইন প্রয়োগ ও সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়।

অ্যালবার্ট ব্রিজের আশপাশে তিন দশকের বেশি সময় ধরে বসবাসকারী এক পেনশনভোগী বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, এই স্থানটি কাউন্সিলের জন্য একটি ‘মানি-মেকার’। তার ভাষায়, চেলসি ব্রিজের প্রবেশব্যবস্থা পরিবর্তনের ফলে অতিরিক্ত ট্রাফিক এই সেতুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যদিও তিনি সেতুর সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন, তবুও তার মতে জরিমানার মাত্রা প্রশ্নবিদ্ধ।

তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত পুরো লন্ডনে পেনাল্টি চার্জ থেকে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব এসেছে অ্যালবার্ট ব্রিজের উত্তর পাশ থেকেই। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামের স্টেশন প্যারেড এবং তৃতীয় স্থানে হারোর ক্যামরোজ অ্যাভিনিউ।

ঐতিহাসিকভাবে অ্যালবার্ট ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরেই কাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে। ১৮৭৩ সালে চালু হওয়া সেতুটি ভিক্টোরীয় যুগের ঘোড়ার গাড়ির উপযোগী করে নির্মিত ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবনতি ঘটায় বারবার ওজনসীমা আরোপ ও সংস্কার কাজ করা হয়েছে। ‘দ্য ট্রেম্বলিং লেডি’ নামে পরিচিত এই সেতু সর্বশেষ ২০১১ সালে দীর্ঘ সংস্কারের পর পুনরায় খুলে দেওয়া হয়।

কেনসিংটন ও চেলসি কাউন্সিলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অ্যালবার্ট ব্রিজকে ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ রাখতে ওজনসীমা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা ছাড়া বিকল্প নেই। চালকদের গাড়ির ওজন যাচাই করে সেতুতে প্রবেশের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এতে সেতুও রক্ষা পাবে, জরিমানাও এড়ানো সম্ভব হবে।

তবে সমালোচকদের একাংশের দাবি, লন্ডনের অন্যতম ধনী কাউন্সিল হিসেবে জরিমানার অর্থ সেতু শক্তিশালীকরণে আরও বেশি বিনিয়োগ করা উচিত ছিল। তাদের মতে, অতিরিক্ত যানজটে ভরা শহরে ট্রাফিকের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করে রাজস্ব আদায় দীর্ঘমেয়াদে সমস্যাই বাড়াবে।

সূত্রঃ দ্য মেট্রো

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রিটেনে হাইকমিশনার আবিদা ইসলামের পদত্যাগের দাবি, স্ট্যান্ড ফর হিউম্যান রাইটসের প্রতিবাদ সমাবেশ

যুক্তরাজ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কড়া নজরদারিঃ ঘরে ঘরে গিয়ে বিন ব্যাগ খুলছে পরিদর্শক দল

রুয়ান্ডা নীতি প্রকাশ করা আবশ্যক: বিচারকের রায়