যুক্তরাজ্যে আবারও বাড়তে যাচ্ছে টেলিভিশন লাইসেন্সের বার্ষিক ফি। কয়েক মাস আগে লাইসেন্স ফি বৃদ্ধি পাওয়ার পর আগামী বছরের ৬ এপ্রিল থেকে আবারও নতুন করে ফি বাড়ানো হবে। সরকারের পূর্বঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী, বর্তমান সনদ কার্যকর থাকার অবশিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রতিবছর মূল্যস্ফীতির হার অনুসারে লাইসেন্স ফি সমন্বয় করা হবে। ফলে ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত দেশটির পরিবারগুলোকে ধাপে ধাপে বাড়তি অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠান দেখা বা রেকর্ড করা, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন কিংবা অন্য যেকোনো ডিজিটাল যন্ত্রে সরাসরি সম্প্রচার উপভোগ করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার অনলাইন সেবায় অনুষ্ঠান দেখার জন্য টেলিভিশন লাইসেন্স বাধ্যতামূলক।
তবে নিম্ন আয়ের প্রবীণদের জন্য সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা বহাল রেখেছে। কর্ম ও পেনশনবিষয়ক সরকারি বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সী যেসব ব্যক্তি প্রবীণদের জন্য নির্ধারিত আয়ভিত্তিক ভাতা গ্রহণ করেন, তারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে টেলিভিশন লাইসেন্স পাওয়ার অধিকারী। এর মাধ্যমে বছরে ১৮০ পাউন্ডের লাইসেন্স ফি পরিশোধের প্রয়োজন হয় না।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই ভাতা কেবল বিনামূল্যের টেলিভিশন লাইসেন্সই নয়, বরং গড়ে বছরে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ পাউন্ড মূল্যের বিভিন্ন অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার সুযোগও এনে দেয়। এর মধ্যে রয়েছে আবাসন ব্যয়ে সহায়তা, স্থানীয় কর পরিশোধে সহায়তা এবং অন্যান্য সরকারি আর্থিক সুবিধা।
চলতি বছরে ভাতার হার ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পর কর্ম ও পেনশনবিষয়ক বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে এই কর্মসূচির আওতায় থাকা ব্যক্তিরা আগের তুলনায় আরও বেশি আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিভাগটির দাবি, এ ভাতার জন্য আবেদন করতে গড়ে মাত্র ১৬ মিনিট সময় লাগে।
সরকার আরও জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় পেনশন ও প্রবীণদের বিভিন্ন ভাতায় অতিরিক্ত ৬০০ কোটি পাউন্ড ব্যয় করা হবে। এর মাধ্যমে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও ক্রীড়াবিষয়ক বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে টেলিভিশন লাইসেন্সে যেসব বিশেষ ছাড় চালু রয়েছে, সেগুলো বহাল থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে আয়ভিত্তিক প্রবীণ ভাতা গ্রহণকারী ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য বিনামূল্যের লাইসেন্স, নিবন্ধিত অন্ধ বা গুরুতর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ছাড় এবং নির্ধারিত আবাসিক পরিচর্যা কেন্দ্রে বসবাসকারী ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী কিংবা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সুবিধা।
বিভাগটি স্পষ্ট করেছে, বর্তমানে সব প্রবীণ নাগরিককে বিনামূল্যে টেলিভিশন লাইসেন্স দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। বরং যাদের আর্থিক প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তাদের লক্ষ্য করেই বিদ্যমান সুবিধা চালু রাখা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, বর্তমান সনদের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান লাইসেন্স ফি ব্যবস্থা এবং সব ধরনের ছাড় বহাল থাকবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের পরিবারের আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন কোনো সুবিধা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হলেও বর্তমানে চালু থাকা কোনো সুবিধা বাতিলের পরিকল্পনা নেই।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২০ সালে নীতিমালা পরিবর্তনের আগে ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সী সব নাগরিককে বিনামূল্যে টেলিভিশন লাইসেন্স প্রদান অব্যাহত থাকলে বছরে প্রায় ৭৪ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড অতিরিক্ত ব্যয় হতো। সেই কারণেই বর্তমানে কেবল নিম্ন আয়ের এবং নির্ধারিত ভাতা গ্রহণকারী প্রবীণদের জন্য এই সুবিধা সীমিত রাখা হয়েছে।
সূত্রঃ এমএসএন ডট কম
এম.কে

