সাবেক লেবার বিচারসচিব চার্লি ফ্যালকনার সতর্ক করেছেন, আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হোটেলগুলো দ্রুত বন্ধ না করলে রিফর্ম ইউকে ধারাবাহিকভাবে জনমত জরিপে লাভবান হবে। তিনি বলেছেন, জনগণ বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায় এবং বিলম্ব করলে রিফর্মের জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে।
শুক্রবার সরকার আপিল কোর্টে ইপিং ফরেস্ট কাউন্সিলের মামলায় জয়লাভ করে। ওই মামলায় বেল হোটেল থেকে ১৩০ জন আশ্রয়প্রার্থীকে সরিয়ে নেওয়ার আদেশ হয়েছিল। সাম্প্রতিক সপ্তাহে হোটেলটি বারবার প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যার কিছু সহিংস আকার ধারণ করেছে। সরকারের এই কারিগরি জয় নতুন আইনি লড়াইয়ের পথ খুলে দিয়েছে, কারণ অন্যান্য স্থানীয় কাউন্সিলও এ ধরনের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।
ফ্যালকনার বিবিসি রেডিও ৪-এ বলেন, সরকার সঠিক পথে এগোলেও পদক্ষেপ আরও জোরদার করতে হবে। তিনি সতর্ক করেন, “যদি সরকার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তবে রিফর্ম পার্টির সমর্থন আরও বৃদ্ধি পাবে।” সাম্প্রতিক বিএমজি জরিপে দেখা গেছে, নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে ৩৫ শতাংশ সমর্থন নিয়ে লেবারের চেয়ে ১৫ পয়েন্ট এগিয়ে আছে।
ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন (ECHR) থেকে যুক্তরাজ্যের সরে যাওয়া নিয়ে আলোচনার প্রশ্নে ফ্যালকনার বলেন, এটি ক্ষতিকর হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শরণার্থীদের বিপদের মধ্যে ফেরত পাঠানো যাবে না, তবে তৃতীয় দেশে পাঠানোর পথ খোলা রাখা সম্ভব।
সরকারের পক্ষ থেকে হোম অফিসমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা ঈগল জানিয়েছেন, বর্তমান প্রশাসন সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সব হোটেল বন্ধ করবে। তিনি বলেন, “আমরা বিশৃঙ্খল এক আশ্রয় ব্যবস্থা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি। অতীতে ৪০০ হোটেল খোলা হয়েছিল প্রতিদিন ৯ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে। আমরা এখন ধাপে ধাপে সুশৃঙ্খলভাবে হোটেল বন্ধ করব।”
অন্যদিকে, শরণার্থী কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী এনভার সলোমন বলেছেন, হোটেল ব্যবহার করে আশ্রয়প্রার্থী রাখা আর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দাবি করেন, ২০২৯ পর্যন্ত অপেক্ষা করা অসম্ভব এবং এটি কেবল আরও বিভাজন ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়াবে। সংস্থাটি একটি বিশেষ স্কিম প্রস্তাব করেছে, যেখানে সম্ভাব্য শরণার্থীদের অস্থায়ী থাকার অনুমতি দিয়ে আগামী বছরের মধ্যেই হোটেলগুলো বন্ধ করা সম্ভব হবে।
রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ কোর্ট অব আপিলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, সরকার ইপিংয়ের জনগণের বিরুদ্ধে ECHR ব্যবহার করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, “স্টারমারের আমলে অবৈধ অভিবাসীদের অধিকার ব্রিটিশ জনগণের চেয়েও বেশি।”
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে
৩০ আগস্ট ২০২৫