6.5 C
London
February 5, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ক্রিসমাসের আগে মানবিক স্বস্তিঃ শরণার্থী উচ্ছেদে হোম অফিস পিছু হটতে বাধ্য হল

যুক্তরাজ্যে নতুন শরণার্থীদের উচ্ছেদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। ফলে আসন্ন ক্রিসমাসে আনুমানিক তিন হাজার মানুষ রাস্তায় রাত কাটানোর ঝুঁকি থেকে বাঁচলেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, যেসব শরণার্থী আসন্ন গৃহহীনতার মুখে পড়তে পারেন, তাদের ক্ষেত্রে সরকার-প্রদত্ত আবাসন ছাড়ার সময়সীমা ২৮ দিনের পরিবর্তে ৫৬ দিন কার্যকর করতে হবে।

 

গত এক বছর ধরে হোম অফিসের একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় শরণার্থী মর্যাদা পাওয়ার পর ‘মুভ-অন পিরিয়ড’ ৫৬ দিন করা হয়েছিল। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভাষ্য, এই সময়সীমা দ্বিগুণ করায় রাস্তায় বসবাসকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। তবে চলতি বছরের আগস্টের শেষে সরকার আবার ২৮ দিনের নোটিসে উচ্ছেদে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যা নিয়ে আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৬০টিরও বেশি বেসরকারি সংস্থা প্রতিবাদ জানায় এবং বিষয়টি আদালতে গড়ায়। বুধবার হাইকোর্টে একটি সমঝোতামূলক আদেশ জারি হয়, যাতে হোম অফিসকে কেসওয়ার্কারদের নির্দেশ দিতে বলা হয়েছে—যদি কেউ প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি আসন্নভাবে রাস্তায় পড়ে যেতে পারেন, তবে তার মুভ-অন সময়সীমা ৫৬ দিনে বাড়াতে হবে। এই আদেশ ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

তবে আদালতের এই সুরক্ষা ইতোমধ্যে যাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং যারা বর্তমানে রাস্তায় বসবাস করছেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এতে একটি বড় মানবিক ফাঁক থেকে যাচ্ছে, কারণ বহু মানুষ ইতোমধ্যেই সহায়তার বাইরে পড়ে গেছেন।

উত্তর লন্ডনে এমনই এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এক ইরিত্রীয় শরণার্থী। হোম অফিসের হোটেল থেকে উচ্ছেদের পর তিনি স্থানীয় কাউন্সিলের কাছে সহায়তা চাইলে ‘অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রয়োজন’ নেই—এই যুক্তিতে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে তাকে স্টেশনের কাছে ঝোপের নিচে রাত কাটাতে হচ্ছে।

এই মামলায় ২৮ দিনের উচ্ছেদ নীতির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানানো আইনজীবী আহমেদ আইদীদ বলেন, আদালতের হস্তক্ষেপের পর হোম সেক্রেটারির এই সিদ্ধান্ত হাজারো মানুষের জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। তার মতে, তীব্র শীতের মধ্যে কাউকে নিঃস্বতা ও রাস্তায় ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নো অ্যাকোমোডেশন নেটওয়ার্কের পরিচালক ব্রিজেট ইয়াং এই আদেশকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বহু নতুন শরণার্থীর জন্য এটি নিরাপদ আশ্রয়ে ক্রিসমাস কাটানো নাকি রাস্তায় থাকার মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, ৫৬ দিনের মুভ-অন সময়সীমাকে স্থায়ী করতে, যাতে আশ্রয়প্রাপ্ত প্রত্যেকে নিরাপদ ও স্থিতিশীল বাসস্থান খুঁজে নেওয়ার ন্যায্য সুযোগ পান।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য হোম অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

উত্তর আয়ারল্যান্ডে ৬০০ পাউন্ড এনার্জি বিল সাপোর্ট নিশ্চিত করলো সরকার

হামাস–ইসরায়েল ইস্যুতে পদত্যাগের চাপে ব্রিটেনের লেবার পার্টির প্রধান

লন্ডনে আগুড়ে পুড়ে একই পরিবারের ৫ সদস্যের মৃত্যু