7.9 C
London
March 20, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ড্রাইভিং টেস্টে ২২ সপ্তাহ অপেক্ষাঃ বুকিং বাণিজ্য ঠেকাতে নতুন নিয়ম

যুক্তরাজ্যে ড্রাইভিং টেস্টের গড় অপেক্ষার সময় প্রায় ২২ সপ্তাহে পৌঁছানোয় সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ক্ষমতায় এসে অপেক্ষার সময় সাত সপ্তাহে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল লেবার, কিন্তু এক বছর পর তা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হাউস অব কমন্সে উত্তপ্ত আলোচনায় ছায়া পরিবহনমন্ত্রী জেরোম মেহিউ সরকারের সমালোচনা করে বলেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষানবিশ চালকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তার দাবি, ২১.৯ সপ্তাহের অপেক্ষা সরকারের দক্ষতার অভাবই প্রমাণ করে।

সরকারের পক্ষ থেকে পরিবহনমন্ত্রী লিলিয়ান গ্রিনউড অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জানান, পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে DVSA–এর সঙ্গে কাজ চলছে এবং ডিসেম্বর মাসে রেকর্ডসংখ্যক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

শিক্ষানবিশদের অভিযোগ, পরীক্ষার স্লট বুক করতে দীর্ঘ সময় লাগছে এবং অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দামে স্লট বিক্রির একটি অনিয়ন্ত্রিত বাজার তৈরি হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, নতুন নিয়মে পরীক্ষার্থীরাই কেবল নিজেদের টেস্ট বুক ও পরিচালনা করতে পারবে এবং বাড়ি থেকে দূরে স্লট বুক করে পুনর্বিক্রয় ঠেকাতে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে।

লেবার এমপি সারাহ ওউন সংসদে একটি উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, তার এলাকার এক বাসিন্দা চাকরি পেতে লাইসেন্স প্রয়োজন হলেও স্বাভাবিক মূল্যের দশগুণ না দিলে টেস্ট পাচ্ছেন না। মন্ত্রী গ্রিনউড এই প্রক্রিয়াকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” উল্লেখ করে বুকিং ব্যবস্থা পুনর্গঠনের আশ্বাস দেন।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ১১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ব্যবহারিক ড্রাইভিং পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় এক লাখের বেশি। বর্তমানে ১,৫৪২ জন পূর্ণকালীন পরীক্ষক কর্মরত আছেন এবং সক্ষমতা বাড়াতে সামরিক পরীক্ষকদেরও যুক্ত করা হচ্ছে।

বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে সরকার ন্যাশনাল অডিট অফিস–এর একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে জানায়, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষার সময় কমাতে পূর্ববর্তী সময়ে সীমিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে বিরোধীরা বলছে, তাতে বর্তমান সমস্যার দায় এড়ানো যায় না।

স্কটল্যান্ডে পরিস্থিতি আরও জটিল বলে জানিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাট এমপি ক্রিস্টিন জার্ডিন। তার মতে, ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় অনেক তরুণ ও স্নাতক চাকরি পাচ্ছেন না এবং দীর্ঘ অপেক্ষা তাদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

সব মিলিয়ে, ড্রাইভিং টেস্টের জট শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। নতুন বুকিং নীতি, পরীক্ষক নিয়োগ ও অতিরিক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে পরিস্থিতি উন্নত হবে বলে সরকার আশা করলেও বিরোধীরা দ্রুত কার্যকর ফলাফল দাবি করছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

‘সবচেয়ে খারাপ’ হলেও ঘুরে দেখার মতো—লন্ডনের নিচের দশ কাউন্সিলের অজানা সৌন্দর্য

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে পূর্ব লিসেস্টারের বিশৃঙ্খলা, গ্রেফতার ২

অনলাইন ডেস্ক

সম্পর্কের বিনিময়ে নারীদের কাজ পাইয়ে দিতেন বরিস জনসন!