থিওরি টেস্ট ও ব্যবহারিক ড্রাইভিং টেস্টের মধ্যে ন্যূনতম ছয় মাস অপেক্ষার পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাজ্যে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। সরকারের দাবি, এই ব্যবধান নতুন চালকদের দক্ষতা বাড়াবে এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সহায়ক হবে।
তবে প্রস্তাবটি নিয়ে তরুণদের মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট।
রিডিংয়ের ২১ বছর বয়সী রায়ান মনে করেন, শিক্ষানবিশ চালকদের নির্দিষ্ট সময় ড্রাইভিং প্রশিক্ষকের সঙ্গে অনুশীলন করা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। তার মতে, সদ্য পাশ করা অনেক চালকের ড্রাইভিং মান উদ্বেগজনক এবং দীর্ঘ প্রশিক্ষণ সময় তা উন্নত করতে পারে।
তবে একই সঙ্গে রায়ান বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ড্রাইভিং লেসনের খরচ অনেক বেশি, যা অনেক তরুণের জন্য বড় বোঝা। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে গণপরিবহন সীমিত হওয়ায় দ্রুত গাড়ি চালানোর সুযোগ পাওয়া অনেকের জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। তার এলাকায় আশপাশের গ্রামগুলোতে বাস মাত্র ঘণ্টায় একবার আসে, ফলে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা বাড়ে।
ইয়র্কের ২৫ বছর বয়সী জ্যাক, যিনি বর্তমানে ড্রাইভিং শেখার কথা ভাবছেন, সরকারের প্রস্তাবকে মোটামুটি ন্যায্য বলেই মনে করেন। তার মতে, বয়সের দুই প্রান্তেই—তরুণ ও বয়স্ক চালকদের মধ্যে—দুর্ঘটনার হার বেশি দেখা যায়, তাই সবার ক্ষেত্রেই কিছু নিয়ম কঠোর করা যৌক্তিক।
তবে জ্যাকও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাড়তি ব্যয় নিয়ে। তার ভাষায়, ছয় মাস ধরে বাধ্যতামূলক লেসন নেওয়ার অর্থ হলো দীর্ঘ সময় ধরে ব্যয়বহুল ড্রাইভিং ফি পরিশোধ করা, যা অনেক শিক্ষানবিশের জন্য আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, সরকারের এই পরিকল্পনা সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এলেও বাস্তব জীবনের আর্থিক ও যোগাযোগসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো বিবেচনায় না নিলে এটি তরুণ চালকদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কাও জোরালো হচ্ছে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

