14.1 C
London
April 22, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ধূমপান রুখতে কড়াকড়ি আইনঃ সমর্থন দিচ্ছে বিরোধী দল

যুক্তরাজ্যে নতুন প্রজন্মকে ধূমপান থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখতে প্রস্তাবিত “তামাক ও ভ্যাপস বিল” ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও এই নীতির সূচনা হয়েছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক–এর সময়, বর্তমানে ক্ষমতাসীন কিয়ার স্টারমার নেতৃত্বাধীন লেবার সরকার তা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিচ্ছে।

প্রস্তাবিত আইনে ১ জানুয়ারি ২০০৯ সালের পর জন্ম নেওয়া কোনো ব্যক্তির কাছে তামাকজাত পণ্য বিক্রি করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে একটি “ধূমপানমুক্ত প্রজন্ম” গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

এই পরিকল্পনা কনজারভেটিভ সরকারের সময় ঘোষণা করা হলেও দলটির অনেক নেতা এখনো এর বিরোধিতা করছেন। ফলে বিষয়টি ব্রিটিশ রাজনীতিতে স্পষ্ট বিভক্তির জন্ম দিয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস এই উদ্যোগকে “গভীরভাবে অ-কনজারভেটিভ” বলে সমালোচনা করেছেন। আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন একে “অযৌক্তিক” সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি বিলটির পক্ষে অবস্থান নেওয়ায়, পার্লামেন্টে এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। কনজারভেটিভ এমপিদের ‘ফ্রি ভোট’ দেওয়ার কারণে তাদের ভেতরেও বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

প্রস্তাবিত আইনে ধূমপানকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে না। বর্তমানে যাদের বয়স ১৮ বা তার বেশি, তারা আগের মতোই তামাকজাত পণ্য কিনতে পারবেন।

তবে নতুন প্রজন্মের জন্য ধীরে ধীরে তামাকের বাজার বন্ধ হয়ে যাবে। ভবিষ্যতে সিগারেট কিনতে গেলে অনেককে পরিচয়পত্র বহন করতে হতে পারে।

নিয়ম ভঙ্গকারী দোকানগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক জরিমানা করা হবে, এবং এই অর্থ তামাক নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

সরকার বলছে, ধূমপান অত্যন্ত আসক্তিকর এবং বেশিরভাগ মানুষ অল্প বয়সেই এতে জড়িয়ে পড়ে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাঁচজন ধূমপায়ীর মধ্যে চারজনই ২০ বছরের আগেই ধূমপান শুরু করেন এবং পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদি আসক্তিতে ভোগেন।
ধূমপান যুক্তরাজ্যে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ। প্রতিবছর প্রায় ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে এর কারণে। ক্যান্সার, হৃদরোগ, ফুসফুসের জটিলতা ও দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিসসহ নানা রোগের জন্য এটি দায়ী।

শুধুমাত্র ইংল্যান্ডেই প্রতি মিনিটে একজন করে ধূমপান-সম্পর্কিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনীতির ওপর বছরে প্রায় ১৭ বিলিয়ন পাউন্ডের চাপ সৃষ্টি করছে এই অভ্যাস, যা তামাক কর থেকে প্রাপ্ত আয়ের চেয়েও বেশি।

স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা সচিব ভিক্টোরিয়া অ্যাটকিন্স বলেছেন, এই বিল “হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচাবে” এবং স্বাস্থ্যখাতের ওপর চাপ কমাবে।
তিনি বলেন, তামাকের কোনো নিরাপদ ব্যবহার নেই এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।

ইংল্যান্ডের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ক্রিস হুইটি, অ্যাকশন অন স্মোকিং অ্যান্ড হেলথ-এর প্রধান ডেবোরাহ আর্নট এবং ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান চারমেইন গ্রিফিথসসহ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই বিলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
তাদের মতে, এই আইন বাস্তবায়িত হলে ধূমপানমুক্ত একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হবে।

উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ড-এও একই ধরনের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে চলতি বছর দেশটির নতুন সরকার সেই আইন বাতিল করে দেয়, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাজ্যে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে এই প্রস্তাবিত আইন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে, তবুও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রশ্নে এটি বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অনস্বীকারযোগ্য অধিকারঃ যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যে বাজেট আগাম আপলোড বিতর্কে চেয়ারম্যান রিচার্ড হিউজের পদত্যাগ

ইতিহাসের দীর্ঘতম মন্দার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য