নারীকে অবহেলাপূর্ণভাবে এইচআইভি সংক্রমণ করায় কিডারমিনস্টারের ৩১ বছর বয়সী লুক ডেভিসকে চার বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। হেরেফোর্ড ক্রাউন কোর্টে সোমবার তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
ডেভিস তার এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে কোনো তথ্য জানাননি এবং তিনি দীর্ঘ সময় চিকিৎসা বন্ধ রেখেছিলেন। মামলায় জানা যায়, সংক্রমণের সময়ে নারীটি কেবল ডেভিসের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক রেখেছিলেন। ২০২১ সালে রুটিন স্ক্রিনিংয়ে ভুক্তভোগী নিজে এইচআইভি পজিটিভ হন।
ভুক্তভোগী আদালতে পাঠানো বিবৃতিতে বলেছেন, “ডায়াগনোসিসের পর আমি অসুস্থ বোধ করেছিলাম। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার সময়। আমি নিজেকে ভালোবাসতে কষ্ট পাই কারণ মনে হয় এই রোগ চিরকাল আমার সঙ্গে থাকবে।”
ডেভিস ২০১৭ সালের আগস্টে এইচআইভি পজিটিভ হন এবং পরের জানুয়ারিতে চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসকরা তাকে প্রতিদিন ঔষধ নেওয়ার গুরুত্ব এবং ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখা ও সংক্রমণ রোধ করার পরামর্শ দেন। কিন্তু তিনি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের পর ক্লিনিকে যাননি এবং ২০১৯ সালে ঔষধ নেওয়া বন্ধ করেন। পরবর্তীতে ডায়াগনোসিস নিশ্চিত করে ভুক্তভোগীকে সংক্রমিত করেছেন ডেভিস, একই স্ট্রেনের এইচআইভি দ্বারা।
বিচারক মার্টিন জ্যাকসন বলেছেন, “যিনি অন্যকে জানাতে চান না যে তিনি এইচআইভি বহন করছেন এবং যিনি অংশীদারদের জানানো নিয়ে পরামর্শ উপেক্ষা করেন, তিনি এটি পরিকল্পিতভাবে করেছেন। ভুক্তভোগীকে এখন এই ভাইরাসের সম্ভাব্য মারাত্মক প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে।”
সিআরএস-এর জিওভানী ডি’আলেসান্দ্রো বলেন, “ডেভিস একজন স্বার্থপর ব্যক্তি। তিনি যথাযথ ঔষধ নিতেন এবং নিয়মিত পরীক্ষা করতেন। তবুও তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুক্তভোগীকে জানান নাই তার রোগ সম্পর্কে এবং সংক্রমণ ঘটিয়েছেন।”
ডেভিসের মায়ের লিখিত আদালতের বক্তব্যে বলা হয়েছে, “জীবন তার প্রতি দয়ালু ছিল না—২০১৭ সালে তার ১৩ মাসের শিশুর মৃত্যু হয়, ২০২০ সালে কোভিডে তার দাদুর মৃত্যু হয়। মানসিক আঘাত তাকে এমন পথে নিয়ে গিয়েছে।”
ওয়েস্ট মেরসিয়া পুলিশের ডিটেকটিভ সুপারিনটেনডেন্ট জেরাল্ড স্মিথ বলেন, “সাজা ভুক্তভোগীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভুক্তভোগীর সাহস প্রশংসার যোগ্য, যিনি পুলিশকে রিপোর্ট করেছেন এবং জটিল ও সংবেদনশীল তদন্ত চলাকালে অসাধারণ সাহস দেখিয়েছেন।”
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

