28.2 C
London
July 4, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে পড়ার দক্ষতায় বাড়ছে পার্থক্যঃ মাধ্যমিকে গিয়েই পিছিয়ে পড়ছে শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীরা

ইংল্যান্ডে সুবিধাবঞ্চিত শ্বেতাঙ্গ পরিবারের প্রতি তিনজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষ করেও এমন পর্যায়ের পড়ার দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না, যা দিয়ে মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যক্রম কার্যকরভাবে অনুসরণ করা সম্ভব। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, এই দুর্বল পাঠদক্ষতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী ধীরে ধীরে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে এবং বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির হারও বাড়ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফল এমন সময় সামনে এলো, যখন শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী পরিবারের শিশুদের শিক্ষাগত অবস্থার ওপর পরিচালিত একটি স্বাধীন তদন্তে মন্তব্য করা হয়েছে যে, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা এই জনগোষ্ঠীর শিশু ও তাদের পরিবারের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট কার্যকর নয়।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছে শিক্ষা-গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ফিশার ফ্যামিলি ট্রাস্ট’। তাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষার পুরো সময়জুড়েই সুবিধাবঞ্চিত শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীদের পড়ার সাবলীলতা তাদের আর্থিকভাবে সচ্ছল সহপাঠীদের তুলনায় কম। শুধু তাই নয়, অন্যান্য জাতিগত পটভূমির সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের তুলনাতেও তারা পিছিয়ে রয়েছে।

গবেষণা অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণি শেষে—অর্থাৎ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগে—সুবিধাবঞ্চিত শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীদের ৩৩ শতাংশ প্রতি মিনিটে অন্তত ৯০টি শব্দ সঠিকভাবে পড়তে পারে না। অথচ সুবিধাবঞ্চিত নয় এমন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার ২০ শতাংশ। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা প্রতি মিনিটে ৯০টি সঠিক শব্দ পড়তে পারাকে নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য পাঠদক্ষতার মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করেন।

গবেষকদের মতে, যেসব শিক্ষার্থী এই মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারে না, তারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠ বুঝতে সমস্যায় পড়ে। এর ফলে তারা ধীরে ধীরে শ্রেণিকক্ষের পাঠ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, আত্মবিশ্বাস হারায় এবং অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতিও কমে যায়।

এই গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে পরিচালিত ১০ লাখের বেশি পাঠদক্ষতা মূল্যায়নের ফলাফল থেকে। এতে ইংল্যান্ডের এক হাজার ৫৭০টি বিদ্যালয়ের ২ লাখ ৩১ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। মূল্যায়নের সময় শিক্ষার্থীদের তাদের সক্ষমতার উপযোগী একটি সংক্ষিপ্ত লেখা এক মিনিট ধরে পড়তে বলা হয়।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পল চারম্যান বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কয়েক বছর পড়াশোনা করলেও সুবিধাবঞ্চিত শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের সচ্ছল সহপাঠীদের দক্ষতার ব্যবধান কমছে না। তাঁর ভাষায়, সাবলীলভাবে পড়তে পারা শিক্ষাজীবনের মৌলিক ভিত্তি। এই দক্ষতা না থাকলে শিক্ষার্থীরা অন্যান্য বিষয়েও পিছিয়ে পড়ে।

বিদ্যালয়প্রধানদের সংগঠনের সহকারী মহাসচিব জেমস বোয়েন বলেন, এই বৈষম্যের শুরু আসলে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ারও আগে। পাঁচ বছর বয়সেই শিশুদের শব্দভান্ডার ও ভাষাগত সক্ষমতায় পার্থক্য তৈরি হয়ে যায়। তাই সমস্যার সমাধানে শুধু বিদ্যালয়ভিত্তিক উদ্যোগ নয়, শৈশব থেকেই শিশু এবং তাদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়া জরুরি।

স্বাধীন তদন্তের সহসভাপতি হামিদ প্যাটেল বলেন, এই গবেষণা আবারও প্রমাণ করেছে যে জাতীয় পর্যায়ে পড়ার সাবলীলতা উন্নয়নে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে মাধ্যমিকের প্রারম্ভিক পর্যায় পর্যন্ত ধারাবাহিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের সফল হওয়ার সুযোগ অনেক বেড়ে যাবে। অন্যথায় এর নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হবে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী পরিবারের শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে সরকার কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর মতে, কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব না হলেও এই বৈষম্য কমাতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, গবেষণার ফলাফল স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করছে যে শিক্ষাগত বৈষম্য দূর করতে কেবল বিদ্যালয়ের পাঠদান নয়, বরং শিশুর প্রাথমিক ভাষা বিকাশ, পারিবারিক সহায়তা এবং ধারাবাহিক শিক্ষাসহায়তার ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। অন্যথায় সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মাধ্যমিক স্তরে পৌঁছেই পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের পার্কিং পারমিট থেকে প্রায় ১৪ মিলিয়ন পাউন্ড আয়

অর্থনীতি নাকি নিরাপত্তা—চীন ইস্যুতে স্টারমার সরকারের সিদ্ধান্ত ঘিরে তর্ক

যুক্তরাজ্যে স্টার্মার সরকারের চাপ বাড়ছে, চ্যানেল পারাপারে নতুন রেকর্ড – উত্তেজনায় স্থানীয় এলাকা