যুক্তরাজ্যের আপিল আদালত মানবাধিকার আইনের আর্টিকেল এইটের আওতায় পারিবারিক জীবনের অধিকার নিয়ে এমন এক রায় দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে পারিবারিক ভিসা ও পুনর্মিলনের আবেদনকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। আদালত স্পষ্ট করেছে, প্রাপ্তবয়স্ক আত্মীয়দের ক্ষেত্রে শুধু রক্তের সম্পর্ক বা পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা থাকলেই আইনি সুরক্ষা মিলবে না; বরং স্বাভাবিক সম্পর্কের বাইরে অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার শক্ত প্রমাণ দেখাতে হবে।
এন্ট্রি ক্লিয়ারেন্স অফিসার v BB & Others \[2026\] EWCA Civ 973 মামলায় এই সিদ্ধান্ত দিয়ে আপিল আদালত জানিয়েছে, আগের কিছু রায়ের তুলনায় এখন আর্টিকেল এইটের ব্যাখ্যা আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। ফলে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান, ভাই-বোন বা অন্যান্য আত্মীয়দের যুক্তরাজ্যে আনার আবেদন আগের চেয়ে বেশি কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
মামলাটি শুরু হয় আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে আসা এক শরণার্থীকে ঘিরে। তিনি ২০১৫ বা ২০১৬ সালে দেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্যে এসে ২০১৮ সালে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পান। দীর্ঘদিন তিনি গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগেছেন এবং থেরাপি নিয়েছেন। পরে তার পরিবারের সদস্যরাও আফগানিস্তান ছেড়ে তুরস্কে আশ্রয় নেন, আর তিনি ২০২০ ও ২০২২ সালে তাদের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে যান।
প্রথমে ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনাল রায় দেয় যে, এই পরিবারের মধ্যে আর্টিকেল এইটের অধীনে সুরক্ষিত পারিবারিক জীবন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পরে আপার ট্রাইব্যুনাল সেই সিদ্ধান্ত বদলে পারিবারিক জীবন বিদ্যমান বলে রায় দিলেও, শেষ পর্যন্ত আপিল আদালত জানায় যে আপার ট্রাইব্যুনাল পুরোনো ও তুলনামূলক শিথিল আইনি মানদণ্ড অনুসরণ করেছে।
রায়ে আদালত পরিষ্কারভাবে বলেছে, নিয়মিত ফোনে কথা বলা, দেখা করা, আবেগগত ঘনিষ্ঠতা বা আর্থিক সহায়তা দেওয়া—এসবকে সাধারণ পারিবারিক সম্পর্ক হিসেবে দেখা হবে। এগুলো একাই Article 8-এর আইনি সুরক্ষা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে দুই পক্ষের মধ্যে এমন ব্যতিক্রমী নির্ভরশীলতা রয়েছে, যা স্বাভাবিক পারিবারিক সম্পর্কের সীমা ছাড়িয়ে যায়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতের পারিবারিক অভিবাসন মামলায় বড় প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান, ভাই-বোন বা অন্য আত্মীয়ের সঙ্গে পুনর্মিলনের আবেদন এখন আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হবে, এবং মানবাধিকারভিত্তিক দাবিতে সফল হতে আবেদনকারীদের আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।
সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট
এম.কে

