দুই বছর আগে ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরে পুলিশের বিরুদ্ধে বর্বরতা ও বর্ণবাদের অভিযোগ তুলে আলোচনায় এসেছিল আমাজ পরিবার। মোহাম্মদ ফাহির আমাজ, তার ভাই মোহাম্মদ আবিদ এবং তাদের মা ম্যানচেস্টারের মিডল্যান্ড হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন। সেদিন তাদের আইনজীবী দাবি করেছিলেন, বিমানবন্দরে পরিবারটি ভয়াবহ ও উসকানিবিহীন পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা নিজেরা কোনো বক্তব্য দেননি। তবে তাদের আইনজীবী অভিযোগ করেন, ঘটনার পর গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের—জিএমপির—ভেতর থেকে তাদের বিরুদ্ধে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে অপপ্রচার’ চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। পরিবারের কয়েকজন সদস্য তখন পুলিশে কর্মরতও ছিলেন।
কিন্তু দুই বছর পর সেই পরিবারের ঘটনাপ্রবাহ সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র সামনে এনেছে। মোহাম্মদ ফাহির আমাজ এখন ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরে দুই নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘুষি মারার ঘটনায় কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে তার ভাই সাবেক পুলিশ কনস্টেবল মোহাম্মদ আবিদ এক নারী সহকর্মীকে বর্ণবাদী মন্তব্য করার ঘটনায় চাকরি হারিয়েছেন।
ম্যানচেস্টার ইভনিং নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাহির আমাজের বিরুদ্ধে বিমানবন্দরের ঘটনায় গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর আদালতে বিচার হয় এবং তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই তিনি আলোচিত হয়ে ওঠেন।
ফাহিরের ভাই মোহাম্মদ আবিদ তখন নিজেও জিএমপির একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন এবং আদালতে তার ভাইয়ের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে আবিদের নিজের আচরণ নিয়েই পুলিশের অভ্যন্তরে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।
এক নারী সহকর্মীর প্রতি বর্ণবাদী মন্তব্য করার ঘটনায় আবিদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি জিএমপির চাকরি হারান। ফলে যে পরিবারটি একসময় পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছিল, সেই পরিবারের দুই ভাই পরবর্তীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে পুলিশের সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনায় শিরোনামে উঠে আসেন।
তবে দুই বছর আগে মিডল্যান্ড হোটেলের সেই সংবাদ সম্মেলনে আমাজ পরিবার নিজেদের পুলিশি নির্যাতনের শিকার হিসেবে তুলে ধরেছিল। সেই সময় ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক জনমত তৈরি হয়েছিল এবং পুলিশের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
কিন্তু পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ঘটনাপ্রবাহে পরিবারের দুই সদস্যের অবস্থান নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। একজন এখন কারাগারে, আর অন্যজন পুলিশের চাকরি থেকে বরখাস্ত।
ম্যানচেস্টার ইভনিং নিউজের অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদক জন শিয়ারহাউট তার প্রতিবেদনে দুই বছর আগের সেই সংবাদ সম্মেলন এবং পরবর্তী ঘটনাগুলোর মধ্যে এই নাটকীয় পরিবর্তন তুলে ধরেছেন।
দুই বছর আগে পুলিশের বিরুদ্ধে বর্বরতার অভিযোগ তুলে সংবাদমাধ্যমের সামনে আসা সেই পরিবারের দুই ভাইয়ের পরবর্তী পরিণতি এখন নতুন করে ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরের ঘটনাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে—একজনের ঠিকানা কারাগার, আর অন্যজন হারিয়েছেন পুলিশের চাকরি।
সূত্রঃ ম্যানচেস্টার-ইভিনিং নিউজ
এম.কে

