ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রতিটি পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি বহাল রাখতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে একটি ‘লাইসেন্স টু প্র্যাকটিস’ রাখতে হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই লাইসেন্স নবায়নের জন্য কর্মকর্তাদের নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা মোকাবিলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে। নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হতে পারে।
আইনজীবী ও চিকিৎসকদের পেশাগত লাইসেন্স ব্যবস্থার আদলে এই নতুন স্কিম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। হোম অফিস জানিয়েছে, পুরো কর্মজীবনজুড়ে কর্মকর্তাদের আধুনিক পদ্ধতি ও হালনাগাদ নির্দেশনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। এই প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ৪৩টি পুলিশ বাহিনীতে একই মানদণ্ডে প্রয়োগ করা হবে, যাতে দেশজুড়ে পুলিশিং আরও সমন্বিত ও স্বচ্ছ হয়।
অপরাধ ও পুলিশিং বিষয়ক মন্ত্রী সারাহ জোনস বলেন, অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হওয়ায় পুলিশকেও দ্রুত বিবর্তিত হতে হবে। তার মতে, নতুন লাইসেন্স ব্যবস্থা নতুন ও অভিজ্ঞ—সব কর্মকর্তাকেই প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করবে এবং কমিউনিটির নিরাপত্তা জোরদার করবে।
তবে প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থাকে ঘিরে পুলিশের ভেতরে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
মেট্রোপলিটন পুলিশ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ম্যাট কেইন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই লাইসেন্স ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ একটি ‘টিক-বক্স’ প্রক্রিয়ায় পরিণত হতে পারে। তার দাবি, বর্তমানে পুলিশ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাই পর্যাপ্ত নয়, তার ওপর নতুন এই ব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।
এই ঘোষণার পাশাপাশি সরকার পুলিশিং কাঠামোয় আরও কঠোর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। নতুন আইনি ক্ষমতাবলে মন্ত্রীরা এখন দায়িত্বে ব্যর্থ হলে পুলিশ প্রধান কনস্টেবলদের অবসর নিতে বাধ্য করতে, পদত্যাগ করাতে বা সাময়িকভাবে বরখাস্ত করতে পারবেন। এতদিন এই ক্ষমতা কেবল পুলিশ ও ক্রাইম কমিশনারদের হাতে ছিল।
এছাড়া কোনো বাহিনীর অপরাধ উদঘাটনের হার বা জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার মান খারাপ হলে সেখানে ‘বিশেষজ্ঞ দল’ পাঠিয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন মন্ত্রীরা। সরকার জানিয়েছে, পুলিশিং নিয়ে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে এবং সেগুলো জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে, যাতে জনগণ জানতে পারে তারা তাদের পুলিশ বাহিনীর কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করতে পারে।
এই সংস্কার পরিকল্পনা এমন এক সময়ে আসছে, যখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ সম্প্রতি ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের প্রধান কনস্টেবল ক্রেইগ গিল্ডফোর্ডের ওপর আস্থা হারানোর কথা প্রকাশ করেন। ওই ঘটনার পর তিনি বাহিনী থেকে অবসর নেন। সরকার বলছে, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই নতুন ক্ষমতা প্রয়োজন।
হিজ ম্যাজেস্টিস ইন্সপেক্টোরেট অব কনস্ট্যাবুলারি অ্যান্ড ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসেস (HMICFRS) এই সংস্কারকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটির প্রধান স্যার অ্যান্ডি কুক বলেন, পুলিশ বাহিনী জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি পরিষ্কার ও ন্যায্য কাঠামো থাকা জরুরি, আর নতুন সংস্কার সেই লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে।
এদিকে, আগামী সপ্তাহে সরকার পুলিশ বাহিনীর সংখ্যা বর্তমান ৪৩টি থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। পুলিশ ফেডারেশন অব ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস সতর্ক করে বলেছে, বাহিনীর সংখ্যা কমালেই যে পুলিশিং উন্নত হবে—তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বাস্তব সংস্কার কার্যকর করতে হলে দক্ষতা, সক্ষমতা ও সরঞ্জামে বড় পরিসরে বিনিয়োগ অপরিহার্য।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

