যুক্তরাজ্যে প্রতিবন্ধী ভাতা পার্সোনাল ইন্ডিপেনডেন্স পেমেন্ট (পিআইপি) পেতে আবেদনকারী অনেক মানুষকে এক বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে তারা ঋণগ্রস্ততা ও দারিদ্র্যের মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে সতর্ক করেছে সংসদের ক্রস-পার্টি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (পিএসি)।
ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস (ডিডব্লিউপি)–এর নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী, নতুন পিআইপি আবেদনের ৭৫ শতাংশ ৭৫ কর্মদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা। কিন্তু গত অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে মাত্র ৫১ শতাংশ আবেদন। পিএসি বলেছে, এটি “গ্রহণযোগ্যতার বাইরে দুর্বল সেবার” স্পষ্ট প্রমাণ।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু আবেদনকারীকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ডিডব্লিউপি দাবি করলেও যে এমন চিত্র তাদের পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হচ্ছে না, বিভাগটি স্বীকার করেছে যে বাস্তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে এবং বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে সমাধান প্রয়োজন।
পিআইপি হলো ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য প্রধান প্রতিবন্ধী ভাতা। এটি আয় বা কর্মসংস্থানের ওপর নির্ভরশীল নয় এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে সহায়তা দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দাবিদারের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে; বর্তমানে প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ এই ভাতা পাচ্ছেন।
ডিডব্লিউপি জানিয়েছে, গত অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত একটি পিআইপি আবেদন নিষ্পত্তিতে গড় সময় ছিল ১৬ সপ্তাহ। বিভাগটি দাবি করছে, আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত করতে কিছু এলাকায় অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে, যার ফলে গড়ে ২০ দিন সময় কমছে। তবে ২০২৬ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ আবেদন অনলাইনে নিষ্পত্তির যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা এখন পিছিয়ে ২০২৯ সাল পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।
পিএসি চেয়ারম্যান ও কনজারভেটিভ এমপি স্যার জেফ্রি ক্লিফটন-ব্রাউন বলেন, তিন বছর আগে কমিটিকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে, কিন্তু এখন বলা হচ্ছে আরও তিন বছর লাগবে। তার ভাষায়, “এটি আমাদের ভোটারদের জন্য মোটেও ভালো খবর নয়। ডিডব্লিউপির এই ধীরগতির কারণে অনেকেই ঋণ ও দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে যাচ্ছেন।”
প্রতিবেদনে ইউনিভার্সাল ক্রেডিট দাবিদারদের জন্য ওয়ার্ক কোচদের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ ৫০ মিনিট থেকে কমিয়ে ৩০ মিনিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কমিটির মতে, এতে জটিল প্রয়োজনসম্পন্ন দাবিদাররা প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, যদি সরকার বিকল্প ব্যবস্থা না নেয়।
এর আগে সরকার পিআইপি পাওয়ার শর্ত কঠোর করার পরিকল্পনা নিয়েছিল, যা লেবার এমপিদের তীব্র বিরোধিতার মুখে বাতিল করা হয়। সরকার ধারণা করেছিল, ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে প্রায় ৫ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় হতো।
পরবর্তীতে সরকার পিআইপি নিয়ে একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা শুরু করে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন সামাজিক নিরাপত্তা ও প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রী স্যার স্টিফেন টিমস। সরকারের দাবি, এই পর্যালোচনার উদ্দেশ্য সাশ্রয় নয়, বরং ভাতাটি যেন ন্যায্য ও ভবিষ্যতের উপযোগী হয় তা নিশ্চিত করা।
ডিডব্লিউপি এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া “ভাঙাচোরা কল্যাণব্যবস্থা” সংস্কার করছে। অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষকে কাজে ফিরতে সহায়তার জন্য প্রায় এক হাজার ওয়ার্ক কোচ পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে এবং ৬৪৭ মিলিয়ন পাউন্ডের আধুনিকায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে পুরোনো ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন ডিজিটাল সিস্টেম চালুর কাজ চলছে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

