যুক্তরাজ্যে প্রতিবন্ধী ও স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভোগা কর্মীদের সহায়তার সরকারি কর্মসূচি ‘অ্যাকসেস টু ওয়ার্ক’-এর অনলাইন সেবায় সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছে দেশটির কর্ম ও পেনশন বিভাগ (ডিডব্লিউপি)। বর্তমান নিয়মের কারণে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পক্ষে নিযুক্ত প্রতিনিধিরা অনলাইনে তাদের দাবি জমা দিতে পারছেন না। সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা থাকলেও পরিবর্তন কার্যকর হতে আরও কয়েক বছর লাগতে পারে।
‘অ্যাকসেস টু ওয়ার্ক’ কর্মসূচির আওতায় চাকরি পেতে বা চাকরিতে টিকে থাকতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থিক ও ব্যবহারিক সহায়তা দেওয়া হয়। এর মধ্যে সহায়তাকারী কর্মী নিয়োগ, বিশেষ সরঞ্জাম কেনা এবং যাতায়াতের খরচ অন্তর্ভুক্ত। কর্মসূচিটির আওতায় প্রায় ৬৯ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অনুদান পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আবেদনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সেবা পেতে অপেক্ষার সময়ও দীর্ঘ হয়েছে। ডিডব্লিউপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আবেদন করার পর সিদ্ধান্ত পেতে গড়ে ১০০ দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ সময় ছিল ৬৭ দিন। ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে কর্মসূচিটিতে সহায়তার চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
ডিডব্লিউপি মন্ত্রী স্যার স্টিফেন টিমস ১২ অক্টোবর সংসদে জানান, বর্তমান অনলাইন ব্যবস্থায় নিযুক্ত প্রতিনিধিরা আবেদনকারীদের হয়ে দাবি জমা দিতে পারেন না। সরকারি ওয়ান লগইনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত পরিচয় যাচাইয়ের ওপর নির্ভরশীল এই ব্যবস্থা গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষা ও দাবির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, অনলাইন সেবায় প্রতিনিধিদের প্রবেশাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে কী কী বাধা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে ২০২৭-২৮ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে ডিজিটাল কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নতুন সুবিধা চালুর নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। আপাতত অনলাইনে আবেদন করতে না পারা ব্যক্তিরা টেলিফোনে যোগাযোগ করতে পারবেন। যারা শুনতে বা কথা বলতে পারেন না, তাদের জন্য রিলে ইউকে সেবাও রয়েছে।
আবেদনসংক্রান্ত জট কমাতে ডিডব্লিউপি ৪৮০ জন নতুন কেস ম্যানেজার ও কেসওয়ার্কার নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ নিয়োগের মাধ্যমে জমে থাকা আবেদন নিষ্পত্তির চাপ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে বসবাসকারী ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্তে এ সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদনকারীকে বেতনভুক্ত চাকরিতে থাকতে হবে অথবা আগামী ১২ সপ্তাহের মধ্যে কাজে যোগ দেওয়া কিংবা কাজে ফেরার পরিকল্পনা থাকতে হবে। শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা কিংবা প্রতিবন্ধকতার কারণে কাজ করতে বা কর্মস্থলে যাতায়াতে সহায়তার প্রয়োজন হওয়াও বাধ্যতামূলক।
সাময়িক শারীরিক সমস্যা, শ্রবণপ্রতিবন্ধকতা, চলাচলের অসুবিধা, ডাউন সিনড্রোম, ডায়াবেটিস, মৃগীরোগ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা, এডিএইচডি, ডিসলেক্সিয়া ও অটিজমের মতো অবস্থার কারণে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। তবে যোগ্যতা নির্ভর করবে চাকরি ও সহায়তার প্রয়োজনীয়তার নির্ধারিত শর্ত পূরণের ওপর। উত্তর আয়ারল্যান্ডে এ কর্মসূচির পরিবর্তে আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।
সূত্রঃ ডেইলি মিরর
এমকে

