TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ফের ভয়াবহ তাপপ্রবাহের হুঁশিয়ারিঃ আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা উঠতে পারে ৩৬°C

তীব্র গরম ও দীর্ঘস্থায়ী খরার মধ্যেই যুক্তরাজ্যে ফের বড় ধরনের তাপপ্রবাহের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামী সপ্তাহে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এরই মধ্যে ইংল্যান্ডের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে জনস্বাস্থ্যের জন্য হলুদ তাপ-স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে কার্যকর হওয়া এই সতর্কতা মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত বহাল থাকার কথা। অতিরিক্ত গরম মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং হাসপাতালসহ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহান্ত থেকেই তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়বে। রোববার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। মঙ্গলবার ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা আবার ৩০ ডিগ্রিতে উঠবে। বুধবার তা বেড়ে ৩২ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে। বৃহস্পতিবার সবচেয়ে বেশি গরম পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে ইস্ট অ্যাঙ্গলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে স্কটল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দেশটির আবহাওয়ায় উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হতে পারে।

চলতি বছর এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার দিন সংখ্যা ৩৩-এ পৌঁছেছে। ১৯৯৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩৪ দিন। আগামী সপ্তাহের তাপপ্রবাহের কারণে ২০২৬ সালে সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এ বছর এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে নরফোকের লিংউডে। গত ২৮ জুন সেখানে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল।

তীব্র গরমের পাশাপাশি খরা পরিস্থিতিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। মে ও জুনের নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে যুক্তরাজ্যে ২ হাজার ৮০০-এর বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। জুলাইয়ের পরবর্তী তাপপ্রবাহের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় খরা পরিস্থিতি আরও তীব্র হয় এবং একাধিক অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল দেখা দেয়।

দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশটির জলাধারগুলোর ওপর। পরিবেশ সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের জলাধারগুলোর পানি সংরক্ষণের গড় মাত্রা শুক্রবার ৬৯ শতাংশে নেমে এসেছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগেও এই হার ছিল ৭২ শতাংশ। দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় বর্তমান পানি মজুত প্রায় ১২ শতাংশ পয়েন্ট কম।

দেশটির অন্তত পাঁচটি জলাধারকে ‘অস্বাভাবিকভাবে কম’ পানির স্তরের আওতায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সমারসেটের ব্ল্যাগডন, পাউইসের ক্লুইডগ, ডার্বিশায়ারের ডাভ গ্রুপ, এসেক্সের হ্যানিংফিল্ড এবং সমারসেটের উইম্বলবল জলাধার।

খরার ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে জুলাইয়ের বৃষ্টিপাতের পরিসংখ্যানে। আবহাওয়া অফিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ১৮৩৬ সালে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর ২০২৬ সালের জুলাই ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সবচেয়ে শুষ্ক জুলাই হয়েছে। ইংল্যান্ডের ১৯টি কাউন্টিতে পুরো মাসে এক মিলিমিটার বা তারও কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এদিকে তীব্র গরম ও শুষ্কতার কারণে দাবানলের ঝুঁকিও দ্রুত বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাফোকের ডানউইচ হিথ, আইল অব ওয়াইটের হেডন ওয়ারেন, দক্ষিণ ওয়েলসের রনডা ভ্যালিস এবং স্কটল্যান্ডের কেয়ার্নগর্মস ন্যাশনাল পার্কে বড় ধরনের দাবানলের ঘটনা ঘটেছে।

ফায়ার সিভিয়ারিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, রোববার ইংল্যান্ডের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় দাবানলের ঝুঁকি ‘এক্সেপশনাল’ বা সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাতে পারে। তবে এই সূচক মূলত আগুন লাগলে তার সম্ভাব্য তীব্রতা মূল্যায়ন করে; কোথায় আগুন লাগবে, তা পূর্বাভাস দেয় না।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শারীরিকভাবে দুর্বল মানুষদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। তীব্র গরমের সময় পর্যাপ্ত পানি পান, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলা এবং দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে সরাসরি রোদ থেকে দূরে থাকার গুরুত্বও সামনে এসেছে।

একই সময়ে জলাধারের পানি কমে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিহীনতা এবং দাবানলের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় যুক্তরাজ্যের পানি ও পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামনে আরও তাপপ্রবাহ হলে খরা পরিস্থিতি আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফলে আগামী সপ্তাহের পূর্বাভাস শুধু আরেক দফা গরমের খবর নয়; বরং স্বাস্থ্য, পানির সরবরাহ, কৃষি, পরিবেশ এবং দাবানল মোকাবিলার ওপর বাড়তি চাপ তৈরির আশঙ্কাও তৈরি করছে। আবহাওয়ার এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সাল যুক্তরাজ্যের উষ্ণতম ও শুষ্কতম বছরগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে কি না, তা নিয়েও নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্রঃ মিরর

এম.কে

আরো পড়ুন

‘অবৈধভাবে এলে আটক ও ফেরত’ — যুক্তরাজ্যের নতুন ফ্লাইট অভিযানে শুরু হলো বাস্তবায়ন

“একজন আসলে, একজন যাবে” নীতি মানবতাবিরোধী—অভিযোগ মানবাধিকার সংস্থাগুলোর

বিলেতে বাড়ি কেনাবেচা || ইনকাম মাল্টিপল ||