হেইট ক্রাইম নিয়ে গুরুতর আশঙ্কার কারণে লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকা দিয়ে কট্টর ডানপন্থী দল ইউকিপ (UKIP)-এর মিছিল করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের পেছনে স্থানীয় জনগণের প্রতিক্রিয়াসহ সম্ভাব্য ব্যাপক সহিংসতার ঝুঁকি কাজ করেছে।
মেট পুলিশ জানায়, ৩১ জানুয়ারি গণহারে যুক্তরাজ্য হতে বহিষ্কারের দাবিতে ইউকিপ যে মিছিলের ডাক দিয়েছে, সেটি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়নি। বরং জননিরাপত্তার স্বার্থে টাওয়ার হ্যামলেটসের পরিবর্তে লন্ডনের অন্য কোনো এলাকায় আয়োজন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এটি একটি নিরাপত্তাভিত্তিক সিদ্ধান্ত, কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নয়।
মেটের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার জেমস হারম্যান বলেন, জনশৃঙ্খলা আইন অনুযায়ী গুরুতর বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতার আশঙ্কা থাকলে পুলিশ শর্ত আরোপ করতে পারে। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে কর্মসূচি চালু রাখা হলে তা কমিউনিটির সদস্য ও পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব।
হারম্যান আরও জানান, পুলিশের ঝুঁকি মূল্যায়নে সবচেয়ে বড় বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে টাওয়ার হ্যামলেটসের স্থানীয় জনগণের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া। তার ভাষায়, বিক্ষোভের ধরন, অবস্থান, অংশগ্রহণকারীদের আচরণ, অতীত অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট কমিউনিটিগুলোর আশঙ্কা—সবকিছু মিলিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস একটি বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা, যেখানে বর্ণবাদী হামলার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। একই সঙ্গে এসব হামলার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে ওঠার নজিরও রয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ আশঙ্কা করছে, ইউকিপের মতো কট্টর ডানপন্থী দলের মিছিল এলাকায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে গত নভেম্বরে বার্মিংহামে ম্যাকাবি তেল আবিবের ফুটবল সমর্থকদের নিষিদ্ধ করার বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ওই ঘটনায় সহিংসতার আশঙ্কায় নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ, এমনকি প্রধান কনস্টেবল ক্রেইগ গিল্ডফোর্ডকে পদত্যাগও করতে হয়।
তবে জেমস হারম্যান স্পষ্ট করে বলেন, ইউকিপের মিছিলের বিষয়টি আলাদা। এটি কোনো পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা নয়; বরং নিরাপদ স্থান নির্ধারণের উদ্যোগ। তার মতে, যেখানে গুরুতর বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা নেই, সেখানে ইউকিপ তাদের কর্মসূচি পালন করতে পারবে।
মেট জানায়, পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে কেউ টাওয়ার হ্যামলেটসে ইউকিপের মিছিলে অংশ নিলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে একই এলাকায় ইউকিপের পরিকল্পিত একটি কর্মসূচিও একই কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
মেটের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক নানা ইস্যুতে বিক্ষোভের সংখ্যা ও জটিলতা বেড়েছে। গত দুই বছরে ৮৮৪টি বিক্ষোভে নিরাপত্তা দিতে গিয়ে পুলিশকে প্রায় ৭৬ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করতে হয়েছে। এর আগেও, ২০১১ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব থেরেসা মে সহিংসতার আশঙ্কায় টাওয়ার হ্যামলেটস দিয়ে ইংলিশ ডিফেন্স লিগের একটি মিছিল নিষিদ্ধ করেছিলেন।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

