যুক্তরাজ্যের রিডিং শহরের একটি অবসরপ্রাপ্তদের জন্য নির্ধারিত আবাসনে অনুমতি ছাড়া পরিবারসহ বসবাস করানোর ঘটনায় আদালতে গড়িয়েছে একটি মামলা। বাংলাদেশি অভিবাসী শাহিদুল হক দাবি করেছেন, তাকে ও তার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হলে তা ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ৮ অনুযায়ী তার পারিবারিক জীবনের অধিকারের লঙ্ঘন হবে।
৫৯ বছর বয়সী শাহিদুল হক ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ডেভিড স্মিথ কোর্ট নামের ওই আবাসনে ওঠেন, যা কেবল ৫৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য বরাদ্দ। মাত্র পাঁচ মাস পর তিনি কোনো অনুমতি না নিয়েই তার স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা মনি এবং তিন বছর বয়সী যমজ কন্যাদের সেখানে এনে বসবাস শুরু করান।
আবাসন মালিক সংস্থা সাউদার্ন হাউজিং জানায়, শাহিদুল হক ভাড়াটিয়া চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছেন। এ কারণে ফ্ল্যাটটির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য সংস্থাটি রিডিং কাউন্টি কোর্টে মামলা দায়ের করেছে।
শাহিদুল হকের দাবি, তিনি ইংরেজি পড়তে ও বুঝতে না পারায় চুক্তিতে পরিবারসহ বসবাস নিষিদ্ধ—এ বিষয়টি তিনি জানতেন না। তিনি বলেন, চুক্তিপত্র তার মাতৃভাষায় অনুবাদ করা হয়নি এবং কোনো দোভাষীর সহায়তাও দেওয়া হয়নি।
এদিকে আবাসনের বয়স্ক বাসিন্দারা পরিবারটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত শব্দ ও অসামাজিক আচরণের অভিযোগ করে আসছেন। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৩৯ দিনে বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গভীর রাতে চিৎকার, কান্না, দরজা আছড়ে বন্ধ করা এবং শিশুদের দৌড়াদৌড়ির কারণে নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে।
একাধিক ঘটনায় রাত ১টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টা ৩০ মিনিটের মধ্যেও শব্দের অভিযোগ করা হয়েছে।
আদালতের নথিতে আরও বলা হয়, শিশুদের দ্বারা জরুরি সহায়তা কর্ড এক দিনে নয়বার এবং আরেক দিনে চারবার টেনে সক্রিয় করা হয়েছে, যা বয়স্ক বাসিন্দাদের জরুরি সেবার জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ফ্ল্যাটের দেয়ালে ক্রেয়ন দিয়ে আঁকিবুঁকি করার অভিযোগও রয়েছে।
সাউদার্ন হাউজিংয়ের পক্ষে আইনজীবী জ্যারেড নরম্যান বলেন, সমস্যা ভাড়াটিয়ার শারীরিক অবস্থা নয়, বরং এই আবাসন পরিবারসহ বসবাসের জন্য উপযুক্ত নয়। তিনি বলেন, অন্য বাসিন্দাদের ভোগান্তির বিনিময়ে একটি পরিবারকে সেখানে থাকতে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না।
অন্যদিকে শাহিদুল হকের পক্ষে আইনজীবী ইসাবেল বার্টশিঙ্গার বলেন, উচ্ছেদ হলে তার মক্কেলের স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক জীবনে গুরুতর ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রভাব পড়বে। তিনি জানান, পরিবারটি স্বল্প আয়ের এবং উচ্ছেদ হলে তারা গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
২০২৪ সালের আগস্টে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে ফ্ল্যাটের দখল হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়নি এবং মামলাটি মুলতবি করা হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মামলার পরবর্তী শুনানি চলতি বছরের ৫ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এই মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাজ্যে ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ৮ কীভাবে আদালতে প্রয়োগ করা হচ্ছে—তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে সামাজিক আবাসন ও মানবাধিকার সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।
সূত্রঃ দ্য ডেইলি মেইল
এম.কে

