যুক্তরাজ্যে ভিন্ন বয়সের দম্পতিদের জন্য পেনশনভিত্তিক আর্থিক সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মের কারণে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ছে। সম্প্রতি এমনই এক ঘটনায় এক দম্পতির পেনশন ক্রেডিট আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দেশটির কর্ম ও পেনশন বিষয়ক দপ্তর (ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস), যা নতুন করে এই নীতির প্রভাব নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিষয়টি অনুসন্ধান করেন অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ক সাংবাদিক জেস শার্প। তার অনুসন্ধানে উঠে আসে, ২০১৯ সালের ১৫ মে থেকে কার্যকর হওয়া নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দম্পতি পেনশন ক্রেডিট পেতে চাইলে উভয়কেই স্টেট পেনশন বয়সে পৌঁছাতে হবে। এর আগে ভিন্ন বয়সের দম্পতিরাও এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারতেন।
এই পরিবর্তনের ভিত্তি আসে ওয়েলফেয়ার রিফর্ম অ্যাক্ট ২০১২ নামের আইনের মাধ্যমে, যার ফলে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যদি একজন সঙ্গী স্টেট পেনশন বয়সের নিচে থাকেন, তাহলে সেই দম্পতিকে বাধ্যতামূলকভাবে ইউনিভার্সাল ক্রেডিট নামের কর্মক্ষম বয়সভিত্তিক ভাতার আওতায় যেতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাতার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় অনেক দম্পতি বছরে হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ফলে এই নীতিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা চলছে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রয়েছে। যারা ২০১৯ সালের ১৫ মে’র আগে থেকেই পেনশন ক্রেডিট বা পেনশন বয়সভিত্তিক বাসাভাড়া সহায়তা পাচ্ছিলেন, তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে সেই সুবিধা চালিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু কোনো কারণে সুবিধা বন্ধ হয়ে গেলে বা পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে তাদের নতুন করে কম ভাতার স্কিমে যেতে হতে পারে।
এছাড়া বাসা পরিবর্তন, দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকা, সঞ্চয়ের পরিমাণে পরিবর্তন কিংবা দম্পতির সম্পর্কের পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোও এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
সংশ্লিষ্ট দাতব্য সংস্থাগুলোর মতে, এই নিয়মের কারণে অনেক ভিন্ন বয়সের দম্পতি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে সঠিক তথ্য জানা এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সূত্রঃ স্কাই নিউজ
এম.কে

