TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ভুয়া চাকরি কিনে ভিসাঃ স্কিলড ওয়ার্কার স্পনসরশিপে বড় তদন্ত শুরু

যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে অবস্থান নিশ্চিত করতে ভুয়া চাকরি কেনার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হোম অফিস। স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা স্পনসরশিপ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই অবৈধ চক্রে মধ্যস্বত্বভোগী এজেন্টরা অভিবাসীদের ভুয়া চাকরির নথিপত্র সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

দ্য টাইমস–এর এক অনুসন্ধানে প্রকাশ পায়, একাধিক তথাকথিত “ভিসা এজেন্ট” অভিবাসীদের জন্য ভুয়া চাকরির রেকর্ড, সিভি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও পে-রোল ডকুমেন্ট তৈরি করে দিচ্ছে, যাতে তারা বৈধ স্পনসরশিপ দেখিয়ে যুক্তরাজ্যে থাকতে পারেন। অনুসন্ধানে ২৬ জন এজেন্টের সঙ্গে কথা বলে অন্তত ২৫০টি ভুয়া চাকরির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, এসব ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে সার্টিফিকেট অব স্পনসরশিপ (CAS) পেতে অভিবাসীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১৩ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতারিত অভিবাসীরা চাকরি না পেয়েও বিপুল অর্থ হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

সরকারি প্রতিক্রিয়ায় এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই অবৈধ কার্যক্রম কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। হোম অফিস ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তার ভাষায়, বর্তমান সরকারের অধীনে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং ২০২৫ সালে ভিসা আবেদনের সংখ্যা এক লাখেরও বেশি কমেছে।

সরকারের দাবি অনুযায়ী, সামগ্রিক অভিবাসন প্রবাহ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে রেকর্ড সংখ্যক স্পনসর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে এবং নিয়ম ভঙ্গকারী নিয়োগকর্তাদের জন্য ‘কুলিং-অফ পিরিয়ড’ দ্বিগুণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা স্পনসরশিপ স্কিমটি ২০২০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকারের সময় চালু হয়। এর লক্ষ্য ছিল ইটভাটা শ্রমিক, স্বাস্থ্যসেবা সহকারী ও সামাজিক পরিচর্যা খাতসহ বিভিন্ন ঘাটতিপূর্ণ পেশায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া।

তবে বিরোধী দলগুলোর দাবি, এই কেলেঙ্কারি প্রমাণ করে সরকারের অভিবাসন ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি রয়েছে। শ্যাডো হোম সেক্রেটারি ক্রিস ফিলিপ বলেন, প্রতারকরা অবাধে ভুয়া ভিসা ও চাকরির মাধ্যমে মানুষকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ বা অবস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছে, যা আইন ব্যবস্থাকে উপহাসের শামিল।

রিফর্ম ইউকে দলের এক মুখপাত্রও কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ঢিলেঢালা স্পনসর লাইসেন্স ব্যবস্থা একটি সক্রিয় কালোবাজার তৈরি করেছে, যেখানে এজেন্টরা হাজার হাজার পাউন্ড হাতিয়ে নিচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার আবেদন কমে দাঁড়িয়েছে ৮৫,৫০০-এ, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৬ শতাংশ কম। একই সময়ে স্বাস্থ্য ও কেয়ার ওয়ার্কার ভিসার আবেদনও ৫১ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবার সরকারের নতুন কড়াকড়ি নীতির ফলেই এই পতন ঘটেছে। এসব নীতির মধ্যে রয়েছে বিদেশ থেকে কেয়ার ওয়ার্কার নিয়োগ বন্ধ এবং স্কিলড ওয়ার্কারদের জন্য ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি করে ৪১,৭০০ পাউন্ড নির্ধারণ।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

পার্টিগেট: লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর কয়েকটি ছবি

পূর্ব লন্ডনের বাঙ্গালী মালিকের বাসা ভাড়া নিয়ে গাঁজা চাষঃ দম্পতির খোঁজে পুলিশ

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে জাতীয় পরিসংখ্যান অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে ঘাপলা

নিউজ ডেস্ক