19.4 C
London
April 27, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে নির্বাচনী লিফলেটঃ ‘ভুয়া’ তথ্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা

ইংল্যান্ডের আসন্ন মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রচারপত্রে বিভ্রান্তিকর, অতিরঞ্জিত এবং সন্দেহজনক তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে “কৌশলগত ভোট” বা কোন দলকে ভোট দিলে অন্য দলকে ঠেকানো যাবে—এমন দাবিকে কেন্দ্র করে ভোটারদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তথ্য যাচাই সংস্থা ফুল ফ্যাক্ট।

গার্ডিয়ানের জন্য পরিচালিত এক বিশেষ তদন্তে ফুল ফ্যাক্ট জানিয়েছে, বিভিন্ন এলাকার নির্বাচনী লিফলেটে দাবি করা হচ্ছে—শুধু একটি নির্দিষ্ট দলই জিততে পারে, অন্য দল “এখানে জিততেই পারবে না”, অথবা “এই দলই একমাত্র বিকল্প”। অথচ এসব দাবির পক্ষে স্থানীয় পর্যায়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য বা গ্রহণযোগ্য পরিসংখ্যান নেই।

তদন্তে দেখা গেছে, ইংল্যান্ডজুড়ে এপ্রিলের প্রথম দুই সপ্তাহে ডেমোক্রেসি ক্লাবের অনলাইন আর্কাইভে জমা হওয়া ৩৩১টি নির্বাচনী লিফলেট বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে ৫৯টিতে চার্ট বা গ্রাফিক ব্যবহার করা হয়েছিল এবং অন্তত ১৪টি লিফলেটে এমন তথ্য পাওয়া গেছে, যা হয় উৎসবিহীন, নয়তো বিভ্রান্তিকর বা ভোটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে ব্যর্থ।

ফুল ফ্যাক্ট বলছে, স্থানীয় নির্বাচনে ভোটের প্রবণতা নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য অনেক সময় পাওয়া যায় না। তাই জাতীয় জরিপের পরিবর্তনকে রাজনৈতিক দলগুলো তুলে ধরতেই পারে। কিন্তু যখন নিশ্চিতভাবে বলা হয়—“অমুক দল এখানে জিততে পারবে না” বা “শুধু আমাদের দলই অন্য দলকে হারাতে পারবে”—তখন তা ভোটারদের ভুল সিদ্ধান্তে ঠেলে দিতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ইউগভের সাবেক চেয়ারম্যান পিটার কেলনার এসব দাবিকে “ভয়াবহ” ও “গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে রাজনৈতিক দল অনেক বেশি হওয়ায় কৌশলগতভাবে কাকে ভোট দেওয়া উচিত তা আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। এই সুযোগে সব দলই নিজেদের “একমাত্র কার্যকর বিকল্প” হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

তিনি বলেন, “যদি কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এমন বিভ্রান্তিকর দাবি করত, তাহলে তারা পার পেত না। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো নিয়মিত এটি করছে।”

সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণগুলোর একটি ছিল পশ্চিম লন্ডনের ইলিং কমনে লেবার পার্টির একটি লিফলেট। সেখানে ভোটারদের সতর্ক করে বলা হয়—“রিফর্মকে এখানে ঢুকতে দেবেন না” এবং একটি চার্টে লেখা হয়—“গ্রিনরা এখানে জিততে পারবে না।” সবুজ বারের পাশে একটি তীর চিহ্ন দিয়ে লেখা ছিল—“নষ্ট ভোট।”

তবে বাস্তবে ওই ওয়ার্ডের তিনটি আসনের মধ্যে দুটি লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকলেও চার্টে তাদের অবস্থান সবচেয়ে দুর্বল দেখানো হয়। ফুল ফ্যাক্ট জানায়, চার্টটি স্থানীয় ফল নয়, বরং অনেক বড় এলাকার পুরোনো নির্বাচনের তথ্য এবং রিফর্মের জাতীয় জরিপ মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছিল, যা বিভ্রান্তিকর।

গেটসহেডে গ্রিন পার্টির একটি লিফলেটে দেখানো হয়—রিফর্ম এগিয়ে আছে এবং গ্রিন পার্টিই তাদের একমাত্র বিকল্প। অথচ যে জাতীয় জরিপের ভিত্তিতে চার্টটি তৈরি করা হয়েছিল, একই জরিপকারী সংস্থা পরবর্তীতে গ্রিনদের তৃতীয় স্থানে দেখিয়েছে।

চেল্মসফোর্ডে রিফর্ম পার্টির একটি লিফলেটে দলটিকে ৩৪ শতাংশ সমর্থন এবং কনজারভেটিভ ও লেবারকে ১৬ শতাংশ দেখানো হলেও কোনো উৎস উল্লেখ করা হয়নি। শুধু তাই নয়, চার্টের আকারও বাস্তব অনুপাতের সঙ্গে মিলছিল না, যা ফুল ফ্যাক্ট “স্পষ্টভাবে বিভ্রান্তিকর” বলে মন্তব্য করেছে।

সাফোকে লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের একটি লিফলেটে লেখা হয়—“এখানে লিব ডেম অথবা রিফর্ম”—কিন্তু একই চার্টে কনজারভেটিভদের দ্বিতীয় এবং লিব ডেমদের তৃতীয় স্থানে দেখানো হয়। আবার সারের হ্যাজলমিয়ারে কনজারভেটিভরা দাবি করে—“রিফর্ম এখানে জিততে পারবে না”, যদিও তা পুরো সারের পুরোনো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

ফুল ফ্যাক্টের সম্পাদক স্টিভ নাওটনি বলেন, “দলগুলো ভোটারদের কাছে নিজেদের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতেই পারে। কিন্তু অনেক লিফলেটে বাছাই করা তথ্য, বিভ্রান্তিকর গ্রাফ এবং অবিশ্বস্ত পরিসংখ্যান দিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, ভোটারদের উচিত শুধু প্রচারপত্রের দাবি দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে তথ্যের উৎস যাচাই করা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা শুধু ভোটারদের ভুল পথে পরিচালিত করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতি, রাজনৈতিক দল এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

পিটার কেলনারের ভাষায়, “যদি সুস্থ গণতন্ত্র বলতে এমন একটি পরিবেশ বোঝায় যেখানে মানুষ সত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়, মিথ্যার ভিত্তিতে নয়—তাহলে এই প্রবণতা নিঃসন্দেহে গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।”

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

লেবার পার্টির রিলিজ স্কিমের অধীনে রেকর্ড পরিমাণ বন্দি মুক্তি

কল্যাণ সংস্কারে স্টারমারের ইউ-টার্নঃ প্রতিবন্ধী ভাতায় নতুন ও পুরনো প্রাপকদের মধ্যে বৈষম্যের শঙ্কা

নিউজ ডেস্ক

ইউরোস্টারের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে ভার্জিনের ৭০০ মিলিয়ন বিনিয়োগের পরিকল্পনা