7.7 C
London
February 28, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে মসজিদের সুরক্ষা তহবিল গ্রহণে ‘প্রমাণের বাধা’ তুলে নেওয়ার দাবি

যুক্তরাজ্যে মসজিদগুলোর সুরক্ষায় বরাদ্দকৃত সরকারি তহবিল পেতে আগে ঘৃণাজনিত অপরাধের শিকার হওয়ার প্রমাণ দেখানোর শর্ত বাতিলের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, বর্তমান নীতিমালা বাস্তবে বহু মসজিদকে ঝুঁকির মধ্যেই রেখে দিচ্ছে।

গত সপ্তাহে হোম অফিস ‘প্রটেকটিভ সিকিউরিটি ফর মস্ক স্কিম’-এর আওতায় মসজিদ, মুসলিম স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারের জন্য সর্বোচ্চ ৪০ মিলিয়ন পাউন্ড তহবিল ঘোষণা করে। এই অর্থ নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, সিসিটিভি, বেড়া, অ্যালার্ম ও ফ্লাডলাইট স্থাপনে ব্যয় করা যাবে বলে জানানো হয়।

তবে সরকারের ইসলামোফোবিয়া পর্যবেক্ষণে আনুষ্ঠানিক অংশীদার ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্ট-এর প্রধান নির্বাহী আকিলা আহমেদ অভিযোগ করেছেন, আবেদন করতে গিয়ে মসজিদগুলোকে আগে লক্ষ্যবস্তু হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ দিতে হয়—যেমন গ্রাফিতি, হামলার চিহ্ন বা পুলিশের রিপোর্ট। শক্ত প্রমাণ না থাকলে আবেদন সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে।

আকিলা আহমেদের ভাষ্য, বাস্তবে এর অর্থ হলো—হামলার শিকার হয়ে পুলিশি প্রমাণ জোগাড় না করা পর্যন্ত অনেক মসজিদ সহায়তা পায় না। তিনি বলেন, ছোটখাটো ঘটনা বা সন্দেহজনক গতিবিধি রিপোর্ট করলেও অনেক সময় পুলিশি সাড়া মেলে না, ফলে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিপুল সংখ্যক আবেদনের কারণে দীর্ঘসূত্রতাও তৈরি হয়েছে; কিছু মসজিদ ১৮ মাস পর্যন্ত অপেক্ষায় রয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার ম্যানচেস্টার সেন্ট্রাল মসজিদে এক ব্যক্তি কুঠার, ছুরি ও হাতুড়ি নিয়ে উপস্থিত হলে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে আটকে পুলিশে খবর দেন। গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে আক্রমণাত্মক অস্ত্র বহনের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পরে বিশোর্ধ্ব আরেকজনকেও আটক করা হয়।

যদিও ঘটনাটি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি, তবুও পুলিশ টহল জোরদার করেছে এবং কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সঙ্গে কাজ করছে।
গত বছর মসজিদে হামলার “সারাদেশব্যাপী বৃদ্ধি”র তথ্য তুলে ধরে ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্ট জানায়, আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে ২৭টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে—যার মধ্যে অগ্নিসংযোগ, এয়ারগান দিয়ে গুলি এবং জানালায় আঘাতের মতো ঘটনা রয়েছে। একই সময়ে সব ধর্মীয় ঘৃণাজনিত অপরাধের প্রায় ৪৫ শতাংশই মুসলমানদের লক্ষ্য করে হয়েছে।

ম্যানচেস্টারের রাশোলম এলাকার এমপি আফজাল খান বলেছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখায় যে সরকারি নিরাপত্তা তহবিল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তার মতে, মুসলমানদের বলির পাঁঠা বানানোর রাজনীতি পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিচ্ছে।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য হোম অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, প্রমাণের বাধা শিথিল করে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুততর করা হলে ঝুঁকিপূর্ণ মসজিদগুলো আগাম সুরক্ষা পেতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

প্রতিদিন লাশ দেখতে দেখতে যুক্তরাজ্যের সীমান্ত রক্ষীরা মানসিক ট্রমায় আক্রান্ত

এই সপ্তাহেই ফিলিস্তিনকে ‘স্বীকৃতি’ দেওয়ার পরিকল্পনা স্টারমারের

ব্রেক্সিটের ১০০ দিন: কেমন আছে যুক্তরাজ্য?